যুুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডোতে রোববার ভোরের দিকে সমকামীদের একটি নাইটক্লাবে বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলি চালিয়ে কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা করে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত এক বন্দুকধারী। তবে হামলা শুরুর তিন ঘণ্টার মধ্যেই নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে সে নিহত হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ হামলা সংশ্লিষ্ট নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। চলুন তাহলে দেখি এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কী কী তথ্য পাওয়া গেছে:
– স্থানীয় সময় রোববার রাত দু’টোয় ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডোর সাউথ ডিভিশন এলাকায় অবস্থিত পালস নামে সমকামীদের একটি নাইটক্লাবে হামলাটি হয়। হামলার সময় ক্লাবের ভেতর প্রায় ৩শ’ মানুষ ছিল।
– পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারী মতিনের কাছে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল ও একটি হ্যান্ডগান ছিল। সে জিম্মি নেয়ার আগে প্রথম কাস্টমারদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। ওই সময় ক্লাবে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাই প্রথম বন্দুকধারীর সঙ্গে গুলি বিনিময় শুরু করেন।
– ভোর ৫টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি সোয়াট টিম পাঠায়। দলটি জিম্মি উদ্ধারের চেষ্টা করার সময় বন্দুকধারীর গুলিবৃষ্টির মুখে পড়ে। তাদের পাল্টা গুলিতেএক পর্যায়ে মারা যায় বন্দুকধারী।
– অরল্যান্ডো পুলিশ প্রধান জন মিনা এই হত্যাকাণ্ডকে পুলিশ বাহিনীতে তার ‘অন্ধকারতম দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
– হামলার ওই ঘটনায় বন্দুকধারীসহ মোট ৫০ জন মারা গেছে। এদের মধ্যে ৩৯ জন ঘটনাস্থলে এবং বাকি ১১ জন হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত্যুবরণ করে।
– আহতের সংখ্যা ৫৩। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই সঙ্কটপূর্ণ। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
– অরল্যান্ডো শহর কর্তৃপক্ষ নিহতদের নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা শুরু করেছে।
– নিহতের সংখ্যার দিক থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
– ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যেই অরল্যান্ডোতে তদন্তকাজ চলছে।
– অরল্যান্ডো পুলিশ রোববার প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলেছিল, স্যান্টা মনিকা থেকে এক ব্যক্তিকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও বলা হয়, ওই ব্যক্তি জানিয়েছে সে সমকামীদের একটি প্যারেডে গিয়ে ধ্বংসাত্মক কিছু করতে চেয়েছিল। কিন্তু পরে ওই বিবৃতি সংশোধন করে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি প্যারেডে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা বললেও সেখানে সে কী করবে এ ব্যাপারে কিছু বলেনি।
– সমকামীদের ওই প্যারেডটি যথাসময়ে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তবে ওই গ্রেফতার হওয়া ওই ব্যক্তির সঙ্গে নাইটক্লাবে হামলার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি পুলিশ।
– অরল্যান্ডোর ক্লাবে হামলার পর ফেসবুক প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে এর সেফটি চেক ফিচার চালু করেছে, যেন অরল্যান্ডোর অধিবাসীরা এই ফিচারের মাধ্যমে স্বজনদের জানাতে পারে তারা নিরাপদ আছে।








