ফ্লু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। বাংলাদেশে সাধারণত এই রোগ শীতকালে বেশি হয়। ফ্লু হলে হঠাৎ করেই তীব্র জ্বর ওঠে যা তিন থেকে চার দিন থাকে। রোগীর সারা গায়ে এবং মাথায় তীব্র ব্যথাও থাকতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে বা তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র স্পর্শ করলে ফ্লু ছড়াতে পারে। সঠিক চিকিৎসা না পেলে সাধারণ এই রোগটিও হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী।
সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, এই মৌসুমে আমেরিকায় ফ্লু-তে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যেই ৩৭টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ফ্লু বর্তমানে ভয়াবহ আঁকার ধারণ করেছে সেখানে। ল্যাবরেটরির পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী পুরো মৌসুমে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬৫২৭ জন রোগী। তার মধ্যে শুধু গত সপ্তাহের শেষ নাগাদই আক্রান্ত হয়েছেন ১১৯৬৫ জন রোগী। ধারণা করা হচ্ছে এই সংখ্যা আরও বেশি। কারণ, ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যান না। এমনকি চিকিৎসকরাও সব রোগীকে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখেন না।
এই ভয়াবহ তথ্যের সঙ্গে আরেকটি তথ্য যুক্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা জানিয়েছে বার্ষিক ফ্লু মহামারি রিপোর্ট অনুযায়ী পুরো বিশ্বে তিন থেকে পাঁচ মিলিয়ন মানুষ মারাত্মক ভাবে ফ্লু আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ২৯০০০০ থেকে ৬৫০০০০ জন্য মৃত্যুবরণ করে। সঠিক চিকিৎসা পেলে অতিরিক্ত জ্বর এবং অসহ্যকর শরীর ব্যথায় আক্রান্ত হওয়া ছাড়া আর তেমন কোনো ক্ষতি হয় না ফ্লুতে। তাহলে এত মানুষ কীভাবে মৃত্যুবরণ করছে প্রতিবছর?
ভ্যানডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির ইনফেকশাস ডিজিজ স্পেশালিষ্ট ড. উইলিয়াম স্ক্যাফনারের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রভাব বেশি পড়ে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের উপর। ফ্লু-এর কারণে ৮০% মৃত্যুও এই বয়সীদেরই হয়। তবে ছোট শিশু এবং অন্য কোনো রোগ থাকলে যেমন হার্টের সমস্যা, ফুসফুসের অসুখ অথবা ডায়াবেটিকস আক্রান্তদের জন্যও ইনফ্লুয়েঞ্জা খুব ঝুঁকিপূর্ণ।
স্ক্যাফনারের জানান, ফ্লু-তে আক্রান্ত হলে তা নিউমোনিয়া, সেপসিস কিংবা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই তিনটি কারণেই সাধারণত রোগীর জীবন হুমকির মুখে থাকে। এছাড়াও নবজাতক থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ফ্লু হলে তা তাদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। তাই প্রবীণ, শিশু এবং গর্ভবতীদেরকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সিএনএন








