মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় খাদ্য ও সার মজুত বন্ধ করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস।
বিবিসির ওয়ার্ল্ড বিজনেস রিপোর্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বিশ্বে খাদ্য ও সারের সবচেয়ে বড় মজুত চীনের হাতে রয়েছে। তারা চাইলে এই মজুত বৃদ্ধি বন্ধ করতে পারে।”
বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকের আগের দিন দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ম্যালপাস বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশ এখন বসন্তকালীন চাষাবাদের আগে জরুরি ভিত্তিতে সার সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
এর আগে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইয়ারা ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রধান নির্বাহী সভেইন তোরে হোলসেথার সতর্ক করে বলেছিলেন, সার সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্বে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ বিলিয়ন খাবারের সমপরিমাণ খাদ্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, সারের ব্যবহার কমে গেলে ফসল উৎপাদন কমবে এবং এতে খাদ্যের জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বা ‘বিডিং ওয়ার’ শুরু হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র দেশগুলো।
এদিকে, চীন মার্চ মাস থেকে বিভিন্ন ধরনের সারের রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। দেশটির দাবি, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২১ সাল থেকেই ধাপে ধাপে সারের রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল বেইজিং।
গত বছর বিশ্বে মোট সার উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশই ছিল চীনের। দেশটির সার রপ্তানির আর্থিক মূল্য ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ম্যালপাস বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও চীনের নিজেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপন করা আর বিশ্বাসযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, চীন অনেক দিক থেকেই ধনী রাষ্ট্র। তারপরও তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রেখেছে।
বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের খাদ্য ও সার বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের জন্য চীনকে দায়ী করা ঠিক নয়।
চীনের উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীন বিশ্বের বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। এটি বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতেই নির্ধারিত।
ইরান যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ম্যালপাস বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একত্র হয়ে পরিস্থিতির সমাধান দাবি করা।
তিনি বলেন, কোনো বেপরোয়া রাষ্ট্রের হাতে প্লুটোনিয়াম থাকতে পারে না এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতি তথ্য প্রকাশের আগে ম্যালপাস বলেন, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য পণ্যমূল্য আরও বাড়তে পারে।








