সোমবার মধ্যরাতে এক নারীকে পুলিশ তল্লাশির নামে যে হেনস্তা করেছে তা কেবল অমানবিক আচরণই নয়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থানের দিক দিয়েও সম্পূর্ণ অনৈতিক। এভাবে তল্লাশির নামে একজন নারীকে অপমান করার দৃশ্যটি ভিডিওতে ধারণ করে ছড়িয়ে হুমকি দেওয়াও বেআইনী কাজ। পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে এ ধরণের আচরণ করলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে যে, আমরা কোথায় বাস করছি? যারা আইনের শাসন নিশ্চিত করবেন তারা উল্টো আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগণকে আরও ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলছেন।
তল্লাশি চালানোটা স্বাভাবিক, কিন্তু অপরাধ হলো তল্লাশির নামে হেনস্তা করা। তিন পুলিশ সদস্য মিলে রাত আড়াইটায় একা এক নারীর সঙ্গে যে আচরণ করেছে, তা অবশ্যই অপরাধ। সেটা ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া আরেক অপরাধ। মহানগর পুলিশকে ধন্যবাদ, তারা ইতোমধ্যে ওই তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে।
যেসব পুরুষ নিজেদের শ্রেষ্ঠ ভাবে, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা লালন করে, তারা সবাই এক। এ কারণে একজন ব্যারিস্টার টেলিভিশনের সরাসরি অনুষ্ঠানে একজন নারীকে ‘চরিত্রহীন’ বলতে পারেন। পুলিশও মধ্যরাতে একজন নারীকে ‘বেয়াদব, হোটেল থেকে আসা’ বলছে। যারা মানুষের চেয়ে বেশি পুরুষ হয়ে ওঠে, তাদের প্রতিরোধ করতে হবে ঘরে, বাইরে, রাস্তায়, দিনে, রাতে। নারী ইস্যু-পুরুষ ইস্যু এভাবে আলাদা না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে হবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানবিক সবাইকে। একজন সাংবাদিককে ‘চরিত্রহীন’ বলার কারণে যেমন ওই ব্যারিস্টারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে, তেমনি পুলিশের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করতে হবে।
পাশাপাশি আমরা এখানে নারায়ণগঞ্জে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগের আঙুল উঠেছে সে বিষয়েও যথোপযুক্ত তদন্ত দাবি করছি। সত্যিসত্যিই যদি পুলিশ ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকে তাহলে তার উপযুক্ত বিচার করতেই হবে। এর আগে নারায়ণগঞ্জে ‘সেভেন মার্ডারের’ যেভাবে বিচার হয়েছে সেভাবেই এক্ষেত্রেও বিচার নিশ্চিত হওয়া জরুরি। হত্যা করে কেউ যদি পার পেয়ে যায় তাহলে রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা খুব সাধারণ কাজ বলে বিবেচিত হওয়া শুরু হবে।
আমরা চাই পুলিশের ভেতর দোষি ব্যক্তিরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। জনগণ যেন আস্থা পায় পুলিশের ওপর।









