মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সোচ্চার সকলেই। সবাই চান পরিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। সেই কথাই এবার নিজের ফেসবুকে লিখলেন কবি, প্রাবান্ধিক
ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার। ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি লিখেন, কারো চিন্তা বা
মতাদর্শ পছন্দ না হলে বা ভিন্নমত থাকলে তার বিরোধিতা, সমালোচনা বা
পর্যালোচনা করা একটি শক্তিশালী সমাজের লক্ষণ।
কুৎসা রটনা, গালাগালি কিংবা কুৎসিত ভাষা ব্যবহার ঘিলুশূন্য কাপুরুষের কাজ। এদের স্পিচ প্রবলেম আছে। এই ধরণের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সমাজে থাকবেই। কিন্তু এদের ফ্রেন্ড লিস্টে রেখে আপনার ফেসবুকের পাতায় উৎপাত করবার প্রশ্রয় দেবেন না। দিলে কথা বলার ক্ষেত্রগুলো নষ্ট হবে। কারণ যারা নোংরামি পছন্দ করেন না তারা এদের দ্বারা অপমানিত হবার ভয়ে চুপ হয়ে যাবেন। অথচ পরস্পরের সঙ্গে কথা বলা আমাদের অবশ্যই জারি রাখা দরকার। বিশেষত যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ভয়ানক সংকুচিত।
পাশাপাশি টেকনোলজির কথা তুলে ধরে তিনি লিখেন, এই ক্ষেত্রে টেকনোলজিরও ভূমিকা আছে। এরা কাপুরুষও বটে। কারণ যে গালি তারা সহজে ফেসবুকে বিমূর্ত এলসিডি স্ক্রিনে দিতে পারে, সেটা সামনা সামনি দিতে পারে না, সেই সাহস তাদের নাই। কারণ সামনাসামনি হলে তাদের নাকমুখ ধসে যাবার ভয় থাকেই।
আমাদের কাজ হচ্ছে কথা বলার ক্ষেত্রগুলো যে কোনো মূল্যে রক্ষা করা। মতের ভিন্নতা প্রকাশ এবং সামষ্টিক বিষয়ে ঐক্য তৈরির জায়গাগুলোর সুরক্ষা জরুরি। সম্ভবত একেই গ্রিকরা ‘পলিস’ বলতো, যেখান থেকে ‘পলিটি’, ‘পলিটিক্স’ ইত্যাদি ধারণার উদ্ভব ঘটেছে। বাংলায় আমরা তাকে রাজনৈতিক পরিসর বলতে পারি। তবে আমরা যেহেতু গ্রিক নই, আমাদের ‘সমাজ’ কথাটার মধ্যে সেই ধারণার অভিপ্রকাশ থাকতে পারে। সমাজ মানে যেখানে সমষ্টির সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত বা নীতিমালা ঠিক হয়। এমনকি বিধি বিধানও। গ্রামে এখনও ‘সমাজ’-এর ভূমিকা দেখা যায়।
এরপর এই কলামিস্ট আরো লিখেন, রাজনীতি সত্যমিথ্যা নির্ণয়ের ক্ষেত্র নয়, সেটা দার্শনিকদের হাতে ছেড়ে দিন। বিভিন্ন মত ও চিন্তার মানুষ কিভাবে এবং কেমন করে একই সমাজের অন্তর্ভূক্ত হতে পারে কিংবা আদৌ হতে পারে কিনা রাজনীতি সেটা নির্ণয় করে। সমাজ বিভক্ত হলে সেটা আজ হোক কিংবা কাল- গৃহযুদ্ধে পরিণতি লাভ করতে পারে। যদি মনে করেন এই দেশে আপনার সংজ্ঞা অনুযায়ী শুধু বাঙালি কিংবা শুধু মুসলমান থাকবে তাহলে আপনি গৃহযুদ্ধের দিকেই দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদেশে আস্তিক, নাস্তিক, ধর্ম প্রাণ, ধর্ম নিরপেক্ষ, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলেরই থাকবার অধিকার আছে। কি নীতিনৈতিকতা, নিয়ম ও বিধিবিধান মানলে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে নির্মূল করবে না সেটাই এখন বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয়।








