ফুটবল খেলায় হেডের কারণে মস্তিষ্কে ক্ষতি হয় বলে জানিয়েছে একদল গবেষক।
যুক্তরাজ্যের স্টারলিং বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়া বিবিসি জানায়, হেড দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে একজন খেলোয়াড়ের মস্তিষ্কে বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে।
সম্প্রতি গবেষকদল এই রিপোর্টটি ক্লিনিক্যাল রিচার্স জার্নাল ইবায়োমেডিসিনে প্রকাশ করেছে।
গবেষকদল আরো জানায়, একজন খেলোয়াড় যদি কমপক্ষে ২০ বার বল হেড করে তবে তার মস্তিষ্কে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এ সময়ে মস্তিষ্কে কর্মক্ষমতা ৪১ শতাংশ কমে যায়। অপরদিকে যদি একজন খেলোয়াড় নিয়মিত হেড প্রাকটিস করে তবে তার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ৬৭ শতাংশ কমে যায়। এইভাবে চলতে থাকলে এক সময় মস্তিষ্কে বড় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে হেডের কারণে একজন ফুটবল খেলোয়াড়ের কি পরিমাণ ক্ষতি তা এখনো হিসাব নিকাশ করে উঠতে পারে নি গবেষক দল।
তবে গবেষকরা তাদের গবেষণার স্বার্থে কয়েকজন পেশাদার ও অপেশাদার খেলোয়াড় নিয়ে দুটি গ্রুপে ভাগ করে কর্নার থেকে হেড দিয়ে এক ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করে।আর যেসব খেলোয়াড় ম্যাচে অংশ নেয় তাদের ম্যাচের আগেই মস্তিষ্কের পরীক্ষা করানো হয়।
মাঠে খেলতে নামার আগে তাদের মাথায় ছোট যন্ত্র সেট করে দেয়া হয়। যা বিজ্ঞানীদের গবেষণার কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত রাখা হয়। যাতে মাথায় বল লাগলে পরবর্তীতে সেটি নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করা যায়। 
স্টারলিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী মাগডালিনা লেটসওয়ার্ট বলেন, ‘গবেষণা থেকে আমরা যা জানতে পেরেছি তা সত্যিই উদ্বেগের। মস্তিষ্কে হেড অনেকটা চাপ ফেলায় ফলে একজন ফুটবল খেলেয়াড়ের আংশিক বা সম্পূর্ন স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে পারে।’
স্টারলিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ্যার অধ্যাপক লিন্ডসে উইলসনও সুর মেলান স্নায়ুবিজ্ঞানী লেটসওয়ার্টের সঙ্গে। তিনি আরো বলেন, মস্তিষ্কে বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে পরবর্তীতে সমস্যাগুলো শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে।’
গবেষণা করা বিজ্ঞানীরা আরও জানায়, ‘এটি নিয়ে আরও বেশি গবেষণা করতে হবে। কারণ বল মাথায় লাগায় একজন পরিপক্ক বয়সের ফুটবলারের কতটা ক্ষতি হয় এবং আর একজন তরুণ ফুটবলারের ক্ষতিটা কি পরিমাণ হয় তা জানতে হবে।’










