মাছারাঙ্গা টেলিভিশনের সিইও ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ফাহিম মুনয়েমের মৃত্যুতে
গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তার সহকর্মী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। বুধবার ভোরে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তরের বার্তা প্রধান সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা লিখেছেন, “তোমার কফিতো ঠান্ডা হয়ে গেল, সেই কবে থেকে নিয়ে বসে আছি….এ সপ্তাহেই এস”…..কাল রাতে এমন করে দাওয়াত দিলেন আর আজ সকালেই চলে গেলেন টিপু ভাই? Stay wonderful wherever you go my ex-boss Syed Fahim Munayem Tipu bhai..:
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ-এর বার্তা সম্পাদক প্রভাষ আমিন তার স্মৃতিচারণ করে বলেন, নিজে গেরাইম্যা বলেই কিনা জানি না ফাহিম মুনেম টিপু ভাইয়ের আভিজাত্যটাই আমাকে খুব টানতো। সাংবাদিক ছেড়া চপ্পল আর ময়লা পাঞ্জাবির যুগেও তিনি উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। দেখতাম আর হিংসা করতাম, ইস সাংবাদিকরাও কত স্মার্ট হয় দেখো। হিংসা করার সুযোগটাও আর পাবো না। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।
প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী শোক জানিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন, শ্রদ্ধা। আমাদের এক সংগে বিদেশ ভ্রমনের একটা স্মৃতি আছে। এনায়েত উল্লাহ খান মিন্টু ভাই, আলমগীর হোসেন ভাইও সে ট্যুরে ছিলেন। অনেক কিছু নিয়ে অনেক গল্প, ঘোরাঘুরি! যথারীতি সে ট্যুরটির উদ্যোক্তাও ছিলেন কাজী ওয়াহিদুল আলম ভাই। আমরাতো তখন এখনকার মতো এমন হাঁটতে চলতে অত ছবি তুলতাম না। সে ট্যুরের কোন ছবি কী শেয়ার করতে পারেন প্রিয় ওয়াহিদ ভাই? ভালো থাকবেন টিপু ভাই। বড় ভালো একজন মানুষ ছিলেন আপনি।
ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান বলেছেন, আপনি এমন একজন মানুষ যার সম্পর্কে আমি সবসময় উচ্চ ধারণা পোষণ করেছি এবং যার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমার এখনো মনে পড়ে ডেইলি স্টারে গিয়ে আপনার মতো যোগ্য একজনকে ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে পেয়ে আমি কতটা খুশি হয়েছিলাম। সেখানে কাজে যোগ দেয়ার পেছনে এটা অনেক বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। যে ক’টা বছর আপনি সেখানে ছিলেন, সেটাকেই আমি পত্রিকাটির সেরা সময় বলে মনে করি, এবং আমার মনে হয় না সেটা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার ছিল। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না আপনি এত কম বয়সে চলে গেলেন। আপনি ছিলেন একজন বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং অনুকরণীয় আদর্শ। এবং আপনার চলে যাওয়া আমাদের আরও নিঃস্ব করে দিল।
সাংবাদিক শরীফুল হাসান লিখেছেন, ১৩ বছর আগে নতুন একটা পত্রিকার তরুণ শিক্ষানবিস সাংবাদিকদের ক্লাস নিতে এসেছিলেন দারুণ স্মার্ট এক ভদ্রলোক। শুধু দেখতে নয় কথাবার্তায়ও তিনি ছিলেন দারুণ। সাংবাদিকতার চেয়ে আপনি সেদিন গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশি বলেছিলেন। ফাহিম মুনয়েমকে সেই আমার জীবনে প্রথম দেখা। এরপর কারওয়ানবাজার ডেইলি স্টার অফিসে অনেকবার দেখা হয়েছে। কখনো কথা বলার সাহস হয়নি। সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দেখেছি আপনাকে অনেকবার। সবসময় মনে হতো,যতো দিন যাচ্ছে ততোই স্মার্ট হচ্ছেন মানুষটা।
তিনি লিখেন, আজ সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি মাছারাঙ্গা টেলিভিশনের সিইও ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ফাহিম মুনয়েম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ফাহিম ভাই, এদেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় যোগ্য দক্ষ লোক খুব কম আছে। আপনি চলে যাওয়ায় সেই সংখ্যা আরেকজন কমলো। দোয়া করি আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসী করুন।
সাংবাদিক রেজাউল করিম লোটাস লিখেছেন, ‘দুঃখ প্রকাশের কোনো ভাষা নাই। ফাহিম ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে খুবই আঘাত পেয়েছি। এটা আমাদের সবার জন্যেই অপূরণীয় ক্ষতি।’
এছাড়াও শোক জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাংবাদিক ও শিক্ষক আফসান চৌধুরী, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা এবং রোজিনা ইসলাম।
ফাহিম মুনয়েমকে নিয়ে অতীত স্মরণ করে শোক জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন। তিনি বলেন, ‘এই ভদ্রলোককে চিনতাম দীর্ঘদিন ধরে। কি কারণে জানি ওনাকে আমার পছন্দ হতোনা । তাই দূর থেকে কখনোই কাছে যাওয়া হয়নি। দূর থেকেই অপছন্দ করতাম।
সম্প্রতি কিছু বিষয় নিয়ে ওনার সাথে আমার অনেক কথা হয়েছে, গল্প হয়েছে। এরপর যা বুঝলাম তা হলো, আমি ভুল ছিলাম। উনি অনেক ভালো মনের মানুষ ছিলেন। কখনো কাছে যাওয়া হয়নি বলে আগে আমার ভুল’টা ভাঙ্গেনি।
আজ ভোরেই উনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে, মাছরাঙ্গা টিভি’র সিইও ফাহিম মুনয়েম ভাই। আপনার চলে যাওয়া মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। যেখানেই থাকেন ভালো থাকবেন মহান আল্লাহ’র কাছে সেই দোয়াই করি।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিরেক্টর ববি আহমেদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, প্রিয় বন্ধু ও সহকর্মীরা ফাহিম মুনয়েম আর নেই! আপনারা টিপু ভাইকে মিস করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, ফাহিম মুনএম, মাছরাঙা টিভির সিইও, টিপু ভাই চলে গেলেন ঘুমের মধ্যে, আজ ভোরবেলায়। বিশেষ করে টিপু ভাইয়ের সাথে আড্ডা, বিভিন্ন গানের জলসায় তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি, রসবোধ ভুলবোনা। তাঁর বিদেহি আত্মার শান্তি কামনা করছি।
সাংবাদিক জ.ই. মামুন বলেছেন, ফাহিম মুনয়েম চলে গেলেন না ফেরার জগতে। আমি কখনো তাঁর সহকর্মী ছিলাম না, তবু তিনি সব সময় আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন, কাছে ডেকে বসাতেন, খাওয়াতেন। আজ ঘুম ভাঙলো তাঁর চলে যাবার সংবাদে। ভোরে বাসাতেই ম্যাসিভ হার্ট এটাক এবং মৃত্যু। এমন অকাল মৃত্যু মানতে কষ্ট হচ্ছে। ভালো থাকুন, আপনাকে শ্রদ্ধা ও সালাম প্রিয় টিপু ভাই।
সাংবাদিক জাহিদ নেওয়াজ খান বলেন, এমন কষ্টদায়ক খবরে দিনের শুরু।
এফবিসিসিআইর স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আকাশ মাহমুদ বলেন, ঘুম ভাঙলো কষ্টের খবরে! মাছরাঙা টিভির প্রধান সম্পাদক এবং সিইও ফাহিম মুনয়েম ভাই চলে গেছেন না ফেরার জগতে। আমার সাথে তাঁর খুব ভালো পরিচয় ছিলোনা। গেলো অক্টোবরে দুবাইতে প্রথম আলাপ, বিচিন্তা কর্মী পরিচয় যেনে অনেক গল্প, মিনার মাহমুদের সাহসী সাংবাদিকতা , ওয়ান ইলেভেনে তাঁর ফখরুদ্দিন সাহেবের প্রেস সেক্রেটারী হওয়া সহ নানা আলাপ! আজ ঘুম ভাঙলো এই সুদর্শন অমায়িক ভদ্রলোকের চলে যাবার সংবাদ শুনে । এমন অকাল মৃত্যু মানতে কষ্ট হচ্ছে। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন, আপনাকে শ্রদ্ধা ও সালাম প্রিয় ফাহিম ভাই।










