ফারাক্কার ধেয়ে আসা পানিতে প্লাবিত হয়েছে কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৪০ হাজার মানুষ। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পানি বিপদসীমা প্রায় ছুঁইছুঁই। প্রতি তিন ঘন্টায় ২ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। পানি বাড়ার গতি অব্যাহত থাকলে আগামী ৪৮ ঘন্টায় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
এদিকে হঠাৎ করে পদ্মায় পানি বাড়ায় দৌলতপুর উপজেলা চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমূল হক বলেন,‘যে গতিতে পানি বাড়ছে তাতে আগামী ৪৮ ঘন্টায় পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে।’ আমাদের টিমের সদস্যরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীতে পানির বিপদসীমা হচ্ছে ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। সেখানে আজ দুপুর বারটায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে ১৪ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার। বিপদসীমা থেকে মাত্র পয়েন্ট ১৭ সেন্টিমিটার দূরে।
১৮ আগস্ট এ পানির মাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার। ১৯ আগস্ট ছিল ১৩ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। ২৫ আগস্ট ছিল ১৩ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার। প্রতি তিন ঘন্টায় ২ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রধান শাখা গড়াই নদেও অব্যহত ভাবে পানি বাড়ছে। পানি বাড়ায় গড়াই নদীর হরিপুর গ্রামে ভাঙ্গন বাড়ছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমূল হক আরো জানান জানান, ‘ভারত তাদের ফারাক্কা বাধের দরজা খুলে দিয়েছে। এতে পদ্মায় পানি বেড়ে যাচ্ছে।’ পানি বাড়া কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে পদ্মা ও গড়াইয়ে অব্যাহত ভাবে পানি বাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তারা সজাগ রয়েছে। নদী ও নদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বাঁধে সব সময় নজর রাখা হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহম্মেদ জানান,‘ পদ্মায় আকস্মিক পানি বাড়ায় চিলামারি ও পাশ্ববর্তী রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে।









