তথ্যপ্রযুক্তি

ফাইভ-জি যুগে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা ফাইভ-জি প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ফাইভ-জি প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের একজন কর্মকর্তা অনলাইন মাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

ডিজিটাল বাংলাদেশের বর্ষপূর্তির দিনে দেশ যুক্ত হলো মোবাইল নেটওয়ার্কের সবশেষ প্রযুক্তি ফাইভ-জি তে।

রোববার ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল রেডিসনে রাতে ফাইভ-জি প্রযুক্তির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্ত হন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই এগিয়ে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত দেশ থেকে পিছিয়ে থাকতে চায় না, থাকবে না। ফাইভ-জি কেবল উন্নত দেশগুলো চালু করছে। আমরাও সেই একই সময়ে ফাইভ-জি সময়ে চালু করতে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফাইভ-জি যদি আমরা মিস করি তাহলে ভবিষ্যৎ ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য সমস্যা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ফাইভ-জি কেবল উন্নত দেশগুলো চালু করছে। আমরাও সে সময়ে চালু করতে যাচ্ছি। আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না।’

জয় বলেন, ‘২০০৮ সালে আমরা ফিরে এসে কী দেখলাম? টেকনোলজিতে আমরা পিছিয়ে গেছি। যখন সারাবিশ্ব ফোরজিতে চলে যাচ্ছে, তখনও বাংলাদেশ টুজিতে আটকে আছে। তখন বিটিআরসি একটি অকশন করে।

‘আমরা ক্ষমতায় আসার পরই দেশে থ্রিজি চালু করি। মোবাইল অপারেটরগুলো এটি দ্রুত ছড়িয়ে দেয়। তখন আমরা উদ্যোগ নিই ফোরজিতে যাওয়ার। স্পেকট্রাম অকশন করে তখন আমরা ফোরজি চালু করে দিই। এখন বেশির ভাগ শহরেই ফোরজি নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। কিছু কিছু গ্রামেও পাওয়া যায়। আমার আশা, মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো সারাদেশেই ফোরজি ছড়িয়ে দেবে।’

সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘আমরা বসে থাকতে চাই না। আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা এটিকে দায়িত্ব মনে করি। আমরা থেমে থাকতে রাজি নই।

বাংলাদেশের ৫জি প্রযুক্তির জন্য চিহ্নিত সিগন্যাল বোর্ড. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি আওয়ামী লীগের মধ্যে এই যে দায়িত্ববোধ, তা কোথা থেকে আসে? এটি আসে স্বাধীনতার চেতনা থেকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু থেকে। তিনি (বঙ্গবন্ধু) সব ত্যাগ করেছেন একটিমাত্র স্বপ্নের জন্য। সেটি ছিল দেশের মানুষের উন্নয়ন।

‘সেই স্বপ্ন ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী, আমার মাকে। মায়ের কাছ থেকে শেখা। তিনি আমাকে, আমার পরিবারকে এই দায়িত্ববোধ শিখিয়েছেন। দেশপ্রেম ছোট থেকেই আমাদের ঘরে একটি দায়িত্ব-কর্তব্য হিসেবে আমাদের শেখানো হয়। আমাদের পরিবারের সবার মধ্যেই এই আত্মবিশ্বাস যে বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ প্রযুক্তি গ্রহণে আর কখনও পিছিয়ে থাকবে না। যখন যে প্রযুক্তি আসবে, হয়তো সবার আগে বাংলাদেশ সেই প্রযুক্তি গ্রহণ করবে। ফাইভ-জিতে বাংলাদেশ খুব বেশি দেরি করেনি। আগামী মার্চ মাসে মাসে মালয়েশিয়া ফাইভ-জি চালু করবে।

তিনি জানান, ২০১৮ সালে দেশে ফাইভ-জির টেস্ট অপারেশন চালানো হয়। সেই সফল পরীক্ষার ফলই আজকের দিনটি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টেলিটকের মাধ্যমে ঢাকা শহরের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, ধানমন্ডি ৩২, বাংলাদেশ সচিবালয়, মানিক মিয়া এভিনিউ (সংসদ ভবন এলাকা) এবং ঢাকার বাইরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা ও টুঙ্গিপাড়ায় ফাইভ-জি কাভারেজের আওতায় আসছে।

আরও জানানো হয়, বিশ্বে ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালুর ২ বছরের মধ্যে বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তি চালু হলো। ফাইভ-জি প্রযুক্তির সুবিধার কথা বলতে গিয়ে বলা হয়, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল গ্রাহকরা অধিকতর উন্নত গুণগত মানের ভয়েস কল ও ফোরজি থেকে বহুগুণ দ্রুত মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকায় বসে প্রত্যন্ত অঞ্চলে রোগীর রোবট সার্জারি করা যাবে। ড্রাইভারবিহীন গাড়ি চালানো যাবে, স্মার্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে অটোনোমাস উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা যাবে।

অনুষ্ঠানে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন বলেন, টেলিটকের পরিকল্পনা হচ্ছে ২০২২ সালে রাজধানীকে ২০০ ফাইভজি বিটিএস তৈরি করা এবং প্রধান এলাকাগুলোকে ফাইভজি নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা।

হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান ঝ্যাং ঝিং জুন বলেন, গত ২১ বছর ধরে হুয়াওয়ে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ইকো সিস্টেমের অন্যতম অংশীদার হিসেবে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশে ফাইভ-জি যুগে প্রবেশের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে হুয়াওয়ে জানাতে চায় উদ্ভাবনী সব প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকবে হুয়াওয়ে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সচিব মো. খলিলুর রহমান, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন। ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন হুয়াওয়ে’র এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট সাইমন লিন এবং হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ঝ্যাং ঝিং জুন।

বিষয়:ফাইভ-জি সজিব ওয়াজেদ জয়

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…