বৃষ্টির মধ্যে প্রবল উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছেন ফরহাদ মজহারের স্বজনরা। ডিবি অফিসের বাইরে একটি মাইক্রোবাসে বসে তার মুক্তির অপেক্ষা করছেন তারা।
তবে ভেতরে তার সঙ্গে কী হচ্ছে বা তাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত কি নেওয়া হচ্ছে তার কিছুই বুঝতে পারছেন না তারা।
বাইরে অপেক্ষমাণ ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার বলেন, আমি এটাতেই স্বস্তি পেয়েছি যে তিনি জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। এখন তাকে ছেড়ে দিলে আমরা হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো।
ফরহাদ মজহারের ঘনিষ্টজন ও বন্ধু গৌতম দাস বলেন, পুলিশ একেক সময় একক রকম তথ্য দিচ্ছে। আদাবর থানায় বললো প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এখন ছেড়ে দিবে নাকি কি করবে কিছুই জানি না আমরা।
ফরহাদ মজহারের মেয়ে সম্তলী হক বলেন, অনেকক্ষণ সময় পেরিয়ে গেছে। তাকে দেখে যা বুঝলাম তার শারীরিক অবস্থা ভালো না, খুব খারাপ। এখান থেকে ছাড়লেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করবো। আমার বাবা তো আসামী নয়, ভিকটিম। একজন ভিকটিমের সঙ্গে কেন আসামীর মতো আচরণ করা হচ্ছে! পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আমাদের কিছু জানানো হয়নি। মামলা হয়েছে কিনা জানি না।
ফরহাদ মজহারকে গতরাতে যশোরের নোয়াপাড়া থেকে হানিফ পরিবহনের বাস থেকে উদ্ধারের পরে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর আদাবর থানায়। সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারপর তাকে নেওয়া হয় ডিবি অফিসে।
সোমবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের ‘হক ভবন’ থেকে স্বাভাবিক পোশাকে, স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বের হয়েছিলেন ফরহাদ মজহার। কিছুক্ষণ পরে তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের মোবাইল ফোনে ফরহাদ মজহার নিজেই জানিয়েছিলেন, কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
সেসময় তাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ফরহাদ মজহার নিয়মিত যে নম্বর ব্যবহার করেন তার বদলে মাঝেমধ্যে ব্যবহার করেন এমন নম্বর থেকে তার স্ত্রীর ফোনে ফোন আসে।
প্রয়োজন হতে পারে জানিয়ে ফোনে ফরহাদ মজহার নিজেই ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলেছিলেন।
এরপর নিখোঁজ লেখক-কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তার মোবাইল ট্রাকিংয়ের ম্যাধমে মোবাইলের লোকেশন সনাক্ত করে খুলনার কেডিএ অ্যাপ্রোচ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল র্যাব।
সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় নগরীর সোনাডাঙ্গা অ্যাপ্রোচ রোড ও ইব্রাহিম মিয়া সড়কে এ অভিযান শুরু হয়েছিল। রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ইব্রাহীম মিয়া সড়কের ১০/১২টি বাড়িতে র্যাব সদস্যরা অভিযান চালিয়েছিল।
ছবি- আরেফিন তানজিব ও তানভীর আশিক










