চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা

মো. সাখাওয়াত হোসেন মো. সাখাওয়াত হোসেন
২:৪০ অপরাহ্ণ ২৪, আগস্ট ২০১৭
মতামত
A A

“বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।“ কবির এই উক্তির মর্মার্থ সহজেই অনুধাবন করা যায় এবং এর অসংখ্য উদাহরণ ধাবমান বর্তমান সমাজব্যবস্থায়। যে সকল মানুষ তাদের ব্যক্তিক জীবনে সফলতা পেয়েছেন, অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন তাদের প্রত্যেকের জীবনেই কারো না কারো অনুপ্রেরণা, পরামর্শ বা প্রেরিত সাহসের অবদান অসামান্য হিসেবে বিবেচ্য। সংক্ষেপে কিংবা বিস্তারিত ভাবে কোন ঘটনার আলোকপাত করলেও বিষয়টি খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠে আসবে শিরোনামের প্রেক্ষিতে।

আমাদের রাজনীতির কবি, বাঙালির রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সফলতার জন্য ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অবদানের আলোকপাতের প্রয়াসই এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য। ফজিলাতুন্নেসা মুজিব যে বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তায় বা সংকটে ছিলেন পরবর্তীতে সে বিষয়গুলোই বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের জন্য সাপেবর হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আর যে বিষয়গুলোতে তিনি সাঁই দিয়েছেন সেগুলো বঙ্গবন্ধুর ক্যারিয়ারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং ক্যারিশম্যাটিক দক্ষতায় সংযোজন হয়েছে নতুন মাত্রা। কয়েকটি উদাহরণ এবং ঘটনার প্রেক্ষিত বিবেচনায় সেগুলোর প্রমাণ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে আলোচ্য নিবন্ধটিতে।

স্বাধীনতার পূর্বে এবং পরেও ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের আদর্শ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং পরামর্শ সঠিক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ৭ম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালিন সময়ে শেখ মুজিবের ইতিহাস সৃষ্টিকারী ঘটনা সে সময়ই সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো এবং ঘটনাটি কিশোর বঙ্গবন্ধুর মনেও ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছিলো রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে নিজেকে বেশি করে সম্পৃক্তায়নে। ঘটনাটি ছিলো এমন: গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। অনুষ্ঠানে ব্যাপক লোক সমাগম হয়েছিলো। অনুষ্ঠানে শেষে সোহরাওয়ার্দী সাহেব ও ফজলুল হক সাহেব যখন চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক তখনই পথ আগলে দাঁড়ান বাঙালির নয়নমণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্কুলের ছাত্রাবাস মেরামতের জন্য ১২০০ টাকা আদায় করে ছাড়েন। সোহরাওয়ার্দী ও ফজলুল হক এ ঘটনায় বিস্মিত হয়ে পড়েন। ঐ ঘটনার পরেই উদীয়মান নেতা হিসেবে সকলের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন বঙ্গবন্ধু। সোহরাওয়ার্দী বালক ছেলেটিকে সেদিন বিশেষ আশীর্বাদ করে আসেন এবং তরুণ মুজিবের জন্য রাজনীতির দ্বার উন্মুক্ত করেন। এ ঘটনাটি উল্লেখ করছি কারণ ফজিলাতুন্নেসা তাঁর স্বামীকে এ ঘটনার পরে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন সারাজীবন যেন গণমানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করে যায় বঙ্গবন্ধু। পরবর্তীতে গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু কাজ করে গিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক একজন মানুষ ছিলেন, গণতন্ত্রের জন্য তিনি সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন এবং নিজের জীবনে সেটিকে বপন করেছেন এবং চর্চা করেছেন। উল্লেখিত লেখায় বারংবার বঙ্গবন্ধুর জীবনসংগ্রাম ও রাজনৈতিক ইতিহাস উঠে আসছে। বিষয়টা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু ও ফজিলাতুন্নেসা মুজিব একে অন্যের পরিপূরক। একজনকে বাদ রেখে অন্যকে মূল্যায়ন করা দুস্করও বটে। কারণ, বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাসের পেছনে এই দুই জন সুযোগ্য মানুষের ভূমিকার সুবাধেই তাঁরা বাংলার মানুষের নিকট চির ভাস্মরে জাগরুক থাকবে। বঙ্গবন্ধু যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতেন। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য পরামর্শক হিসেবে উপদেষ্টা ছিলো, কিন্তু সব থেকে বড় পরামর্শক ছিলেন ফজিলাতুন্নেসা। খাবার টেবিলে বঙ্গবন্ধু পারিবারিক বিষয়গুলোর সাথে রাষ্ট্রীয় বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন বঙ্গমাতার পরামর্শ মোতাবেক। এবং বঙ্গবন্ধু যে কোন বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলে বঙ্গমাতার স্মরণাপন্ন হতেন।

ষাটের দশকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুরোদস্তর রাজনীতিবিদ হিসেবে চার দেয়ালের আড়ালে থেকে সাংগঠনিক দৃঢ়তায় তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন তা প্রশংসনীয় এবং একজন বাঙালি রমণী হিসেবে তিনি অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। আন্দোলনের উত্তাল সময়গুলোতে সামরিক সরকার রাজনীতিবিদদের কারাগারে নিক্ষেপ করেছিলো। প্রকাশ্যে রাজনীতি, স্বাধীনতা, নিজেদের অধিকার ইত্যাদি নিয়ে কথা বলার সুযোগ ছিলো না। সে সময়টায় গোপনে কারাগারে নিক্ষেপিত নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি খোঁজ খবর পাঠাতেন এবং পরিবারের সদস্যদের মতই মূল্যায়ন করতেন। নিজস্ব সাধ্য মোতাবেক সাহায্য সহেযোগিতা পাঠাতেন। আইনজীবি নিয়োগের মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করতেন, আশাহত নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়ে চাঙ্গা রাখতেন। নিজ বাড়িতে পরম মমতায় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আত্নীয় স্বজনদের আপ্যায়ন করাতেন, সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনে ব্যবস্থা নিতেন। আশাহত নেতাকর্মীরা খুঁজে পেতেন আশার-আলো, আন্দোলনের জ্বালানি আসতো ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের আশাজাগানিয়া বক্তব্য থেকে। বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলার জনগণ ফজিলাতুন্নেসাকে বঙ্গমাতা উপাধি দিয়ে অভিহিত করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকে সময়ক্ষেপনে নিজের মতামত পোষণ করতে দ্বিধা করেননি বঙ্গমাতা। এ রকম একটি ঘটনার উল্লেখ করা যায়: ১৯৭১ সালের ২৩ কি ২৪ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগের সাথে পিপিপি’র সমন্বয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠন করার প্রস্তাব আসে বঙ্গবন্ধুর কাছে। এ প্রস্তাব আসার সাথে সাথে বঙ্গমাতা বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বলেন: “দেখো আমি তোমার রাজনীতি করি না, তুমি যদি ভুট্রোর সাথে কোয়ালিশন করো তবে লোক এই বাড়িতে পাথর মারবে। আমি এই বাড়িতে থাকবো না, টুঙ্গিপাড়ার বাড়িতে চলে যাবো।” এমন দৃঢ়চেতা মনোভাবের কারণেই বঙ্গবন্ধু সঠিক সময়ে উপযুক্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন। একবার ভাবা যায়, ঐ সময়টায় যদি বঙ্গবন্ধু নেতাদের চাপে কোয়ালিশন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিতেন তাহলে কি আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম। এখানেই ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করেছেন বঙ্গমাতা, ওনার দৃঢ়চেতা মনোভাবের কারণে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক পথ মসৃন হয়েছিলো। বাংলার মানুষের মুক্তি আন্দোলনের পথ পেয়েছিলো আলোর দিশা, মুক্তিকামী মানুষ পেয়েছিলো দীপ্তিময় শপথ গ্রহণের দীক্ষা।

Reneta

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বঙ্গমাতার যুগোপযোগী ভূমিকার কারণে স্বাধীন বাংলাদেশের আন্দোলনের পথ প্রশস্থ হয়। গোপন চুক্তির মাধ্যমে তৎকালিন সরকার বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে এবং এ কাজে আওয়ামী লীগ নেতারা সাঁই দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গমাতা ঘটনার গভীরতা অনুধাবন করতে পেরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে ওয়াজেদ মিয়া সহ কারাগারে চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি বঙ্গবন্ধুকে কোন শর্তে মুক্ত হতে নিষেধ করেন। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন, বাংলার মানুষ তোমার পক্ষে, কোন শর্ত সাপেক্ষে সরকারের শর্তে মুক্ত হওয়া যাবে না। শেখ মুজিবের জেদী মনোভাব এবং বঙ্গমাতার দৃঢ়চেতা, ব্যক্তিক চিন্তা ও সহযোগিতার কারণে সরকার বিনা শর্তে শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। গবেষকরা এখনো সেই সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ঐ একটি সিদ্ধান্তই বাংলার স্বাধীনতার আকাশকে উজ্জ্বল দ্যুতির আলোয় মেলে ধরেছিলো। এখানেই বঙ্গমাতা অনন্য, অতুলনীয়। রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় তিনি যে কোন সময়ের নেতাকর্মীর চেয়ে অনেক দূর ভাবনায় নিয়ে আসতে পারতেন। আজ থেকে দীর্ঘদিন পর বাংলার আকাশে কি ঘটবে বা ঘটতে যাচ্ছে সেটি তিনি তাঁর দূরদৃষ্টিতা দিয়ে অবলোকন করতে পারতেন। তাইতো তিনি বঙ্গবন্ধুকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পেরেছিলেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের সঠিকতা যাচাই হয়েছিলো।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের জগদ্বিখ্যাত ভাষণের কথা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। বিশ্বের ইতিহাসের সেরা ভাষণগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম এবং গবেষণা সাপেক্ষে বিগত ২৫০০ বছরের মধ্যে এটি সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এবং এ ভাষণের প্ররোচনাকারী হিসেবে বঙ্গমাতার ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। সে দিন বঙ্গবন্ধুর ১০৪ ডিগ্রী জ্বর ছিলো এবং রেসকোর্স ময়দানে যাওয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গমাতার ভূমিকা সর্বমহলে প্রতিষ্ঠিত। বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন: সারা বাংলার মানুষ আজ তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, তোমার মনে যা আসবে তুমি তাই বলবে। এ রকম রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মহিয়সী রমণীর কারণে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাঙালির রাখাল রাজা হওয়া সম্ভব হয়েছে। আর সে ভাষণটিই বাংলার মানুষকে স্বাধীনতার দিকে ধাবিত করতে পেরেছিলেন। সাড়ে সাত কোটি বাঙালি এক বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলি নির্দেশে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলেন।

১৯৬৬ সনের ছয়দফা আন্দোলনের পক্ষে জনসমর্থন আদায় ও জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে লিফলেট হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন বঙ্গমাতা। কারণ, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবকৃত ৬ দফা বাস্তবায়িত হলে বাংলার মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে। তাই তিনি জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছিলেন এবং বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ হিসেবে ৬ দফা প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলো। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি জোরালো ভূমিকা পালন করেন কিন্তু সামরিক জান্তা প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছিলো বঙ্গমাতার স্বাভাবিক জীবনাচরণে। ঐ কঠোর সময়ে তিনি ছেলে শেখ কামালকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সেক্টরগুলোতে নিয়মিত চিঠি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজখবর নিতেন। বুদ্ধি এবং রণকৌশল খাটিয়ে তিনি তাঁর শ্বশুরকে বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং সে স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়মিত চিঠি আদান-প্রদান করতেন। সময়ের সাথে পরিস্থিতি বিবেচনায় ভূমিকা নিতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। তাই তো তিনি বাংলার মানুষের নিকট স্মরনীয় বরণীয় হিসেবে মণিকোঠায় স্থান নিয়েছেন।

১৯৭৪ সনের পাকিস্তানের লাহোরে ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত ইসলামী সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন বঙ্গমাতা। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, লাহোরের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জুলফিকার আলী ভুট্রোকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাতে হবে স্বাভাবিকভাবে। তাজউদ্দিন আহমেদ সহ অন্যরাও চেয়েছিলেন দলের সিনিয়র নেতা বা মন্ত্রী যেন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের প্লেন পাঠানো এবং সৌদি আরবের বাদশাহর বিশেষ নিমন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গমাতার ভয় হয়েছিলো ভুট্রো যদি বঙ্গবন্ধুর নিমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসেন তাহলে এ দেশীয় দোসররা দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করার সুযোগ পাবে। এবং বঙ্গমাতার আশংকা সত্যি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিলো। ভুট্রোর বাংলাদেশ সফরের পর হতেই দেশীয় বিদেশী চক্রান্তের রূপ মারত্নক আকার ধারণ করে এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মত জঘন্য ঘটনা ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে। ফজিলাতুন্নেসা তাঁর দূরদৃষ্টি দিয়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন স্বচক্ষে কারণ তিনি অর্ন্তদৃষ্টি দিয়ে বিষয়ের গভীরতা অনুধাবন করে ভবিষ্যৎবাণী করতেন।

আজ মনে হচ্ছে বঙ্গবন্ধু যদি বঙ্গমাতার অনুরোধ শুনতেন তাহলে ১৫ আগস্টের মতো নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটতো না বাংলাদেশের ইতিহাসে। কারণ, ষড়যন্ত্রকারীরা উৎ পেতে ছিলো বঙ্গবন্ধুর দুর্বলতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে হত্যাকান্ডের নীলনকশা তৈরি করতে এবং তারা সুযোগ বুঝে কোপ মেরেছিলো। এরকম আরো অনেক ঘটনায় আছে যেখানে বঙ্গমাতা বঙ্গবন্ধু সতর্ক করতেন শত্রুদের সম্বন্ধে কিন্তু বঙ্গবন্ধু সময়ের প্রেক্ষিতে হয়তো বিবেচনায় নিতে পারেননি। সুতরাং বলা যায়, রাজনৈতিক দৃস্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বঙ্গমাতা ছিলেন সিদ্ধহস্ত। কারণ তাঁর বাড়িটিই ছিলো রাজনীতির পাঠশালা, ঐ বাড়িতে থেকে কিংবা ঐ বাড়ির পাঠ নিয়ে অনেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সমৃদ্ধ জায়গা করে নিতে পেরেছেন। বঙ্গমাতাকে হৃদয়ের গভীর থেকে স্মরণ করছি এবং এই আগস্ট মাসে নৃশংস হত্যাকান্ডে শহীদদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: ফজিলাতুন্নেসা মুজিববঙ্গবন্ধুবঙ্গমাতা
শেয়ারTweetPin
পূর্ববর্তী

প্রধান বিচারপতি বিষয়ে ৯৭ অনুচ্ছেদে ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী

পরবর্তী

চমক নিয়ে হাজির হলো স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৮

পরবর্তী
-4 Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

চমক নিয়ে হাজির হলো স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৮

সিলেটের আতিয়া ভবনে নিহতের স্বজনদের চেক প্রদান করছেন প্রধানমন্ত্রী।

বন্যা দুর্গতদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ

বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস স্পেনের

জুলাই ২০, ২০২৬

‘স্পেনই ভালো খেলেছে, তবে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়েছি’

জুলাই ২০, ২০২৬

তরেসের গোলে মেসিদের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

জুলাই ২০, ২০২৬

দশ জনের দলে পরিণত আর্জেন্টিনা, খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে

জুলাই ২০, ২০২৬

হাফটাইম শোর জন্য ফুটবলের আইন ভাঙল ফিফা

জুলাই ২০, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT