বাংলাদেশ

‘প্রয়োজনে খাবার ভাগ করে খাবো, কিন্তু নাফ নদীতে ঠেলে দেবো না’

‘প্রয়োজনে খাবার ভাগ করে খাবো, কিন্তু নাফ নদীতে ঠেলে দেবো না’

প্রয়োজনে শরণার্থী হিসেবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণ খাবার ভাগ করে খাবে; কিন্তু মিয়ানমারের মতো তাদের নাফ নদীতে  ঠেলে দেবে না বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আজ জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশনে সংসদ নেতার সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন: আমি রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চিত্র দেখতে কক্সবাজার সফর করেছি। তাদের দুর্ভোগের কথা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এমন না যে, শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠিই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আমাদের এখানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক ভালো ভালো পরিবার, সরকারি চাকুরিজীবী সবাই  চলে এসেছে। তাদের দেখে শুধু আমার একটা কথাই মনে পড়েছে-৭১’এ পাকিস্তানী হানাদাররা আমাদের ওপর যে অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়েছিলো; রাখাইনেও মিয়ানমার সেনাবাহিনী একই কাজ করেছে। আমরাও তো শরণার্থী হয়ে প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এদেরকে আমরা কিভাবে ফিরিয়ে দেই, মাননীয় স্পিকার?

তবে,  এবার দেখলাম যারা এসেছে তাদের মধ্যে নারী-শিশু এবং বয়োবৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি। তার মানে কেউই তাদের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। এভাবে চলতে পারে না। মিয়ানমার সরকারকে বলবো, যারা দোষী তাদের খুঁজে বের করুন। নিরীহ মানুষের ওপর কোনো ধরণের অত্যাচার মেনে নেওয়া হবে না।

এসময় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের করুণ অবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। বলেন: আমরা কাছে একটা বাচ্চা এসেছিলো, তার সামনেই তার বাবা-মাকে হত্যা করা হয়েছে। একটা বাচ্চা মেয়ে বললো, সে তার ভাইয়ের সঙ্গে এসেছে। কিন্তু এখন তাই ভাইকেও খুঁজে পাচ্ছে না। ভাবুন তো, ৭১ সালে আমাদের অবস্থা এমন হয়েছিলো।  ১ কোটিরও বেশি মানুষ প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছিলাম।

রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থান গড়ে তোলার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন: আামি তাদের থাকার জন্য ২০০০ একর জমি দিয়েছি। বাঁশের সঙ্গে টিন এবং পলিথিন টাঙিয়ে থাকছে তারা। কিন্তু এভাবে কতো দিন। কিছুদিন পরই  স্যানিটেশন  সমস্যা তৈরী হবে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভাসান চরে তাদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থান তৈরী করতে। এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নেভিকে।

১৬ তারিখে আমি জাতিসংঘে যাচ্ছি। সেখানে রোহিঙ্গাদের অবর্ননীয় দুর্ভোগের কথা তুলে ধরবো। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ব্যাপারে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে উঠেছে।

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…