গেল বছরের শেষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় দুই নির্মাতার এক ছবি, ‘পাঠশালা’। ছবিটির মুক্তি নিয়ে বহু কাঠখড় পোহাতে হয়েছিলো তরুণ দুই নির্মাতাকে। তবে ‘পাঠশালা’র পর এবার কিছুটা পরিপক্ক হয়ে নতুন ছবি নিয়ে হাজির হচ্ছেন আসিফ ইসলাম ও ফয়সাল রদ্দি। তাদের নতুন ছবির নাম ‘যাযাবর’।
‘পাঠশালা’ ছবি যে ধরণের ছিলো সেখান থেকে পুরোপুরি ভিন্ন ধাঁচের এই ছবিটির প্রেক্ষাপট সংগীত ও প্রেম!এমনটাই সম্প্রতি জানিয়েছেন দুই নির্মাতা। এরইমধ্যে ছবির শুটিংয়ের কাজও প্রায় শেষের দিকে। শুধু তাই নয়, মুক্তির তারিখ নিয়েও ভেবে রেখেছেন তারা।
রেডমার্ক প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিতব্য ছবিটির নব্বই শতাংশ কাজ শেষের পথে জানিয়ে নির্মাতা আসিফ ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘সবাইকে একটু সারপ্রাইজ দিলাম!’ তবে ছবিটির বিস্তারিত পরিকল্পনা জানিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন আরেক নির্মাতা ফয়সাল রদ্দি:
নতুন ছবির পোস্টার প্রকাশ করে আপনারাতো সারপ্রাইজ দিলেন রীতিমত?
হ্যাঁ, তা একটু সবাইকে চমকে দেয়ার উদ্দেশ্যও ছিলো। আমাদের রেডমার্ক প্রোডাকশন থেকে এই সিনেমার ঘোষণা আরো আগে দেয়ার কথা থাকলেও ‘পাঠশালা’ মুক্তি দিতে দেরী হলো। না হলে ‘যাযাবর’ এর খবর আরোো আগেই জানাতে পারতাম।
‘যাযাবর’ ছবিটিও ‘পাঠশালা’র মতোই দুই নির্মাতা?
হ্যাঁ, আমি আর আসিফ ইসলাম দুজনেই একসঙ্গে কাজ করতে স্বস্তিবোধ করি। পাঠশালা কিংবা আমাদের অন্যান্য আরো কাজের মতো এটাও যৌথ পরিচালনার। এই বিষয়ে ইতোমধ্যে অনেকেই আমাদের জিজ্ঞেস করেছে যে, আমরা কি সব সময়ই একসঙ্গে কাজ করবো? আমি তাদের বলেছি, সব সময় একসঙ্গে কাজ করবো এটা ঠিক জানি না। বিষয়টি হচ্ছে, যে প্রোডাকশনগুলো আমাদের একসঙ্গে করার ইচ্ছে তেমন গুলো আমরা একসঙ্গেই করবো।
‘যাযাবর’ সিনেমা নিয়ে যদি একটু ধারনা দেন, কেমন ছবি এটি?
এই ছবির কাহিনি, সংলাপ, চিত্রনাট্য সবই আমার। এই ছবির কাস্টিং ডিরেক্টরও আমি। তবে আগে থেকেই গল্পটা নিয়ে আমি কোনো আভাস দিতে চাইছি না এই মুহূর্তে। যতোটুকু বলবো, যাযাবর প্রেম ও গানের সিনেমা। মানে প্রেমও এখানে অনেক বেশী বেশী, গানও কোনো অংশে কম নয়।
তারপরও একটু আভাস যদি দেয়া যায়?
মূলত অনিন্দ্য নামের একজন মিউজিশিয়ানের জার্নিকে কেন্দ্র করে সিনেমার কাহিনি। সেই হচ্ছে এই সিনেমার প্রোটাগনিস্ট। যার স্বভাব হচ্ছে যাযাবরের। একটু বহেমিয়ান, ঘর পালানো একটা ছেলে। এই অনিন্দ্য চরিত্রের মধ্য দিয়েই একজন মিউজিশিয়ানের ক্রাইসিস, জীবনের চড়াই উৎরাইগুলোই উঠে আসবে। এর বেশীকিছু এখন ই জানাতে চাই না।
অনিন্দ্য চরিত্রে কাকে কাস্ট করলেন?
এই ছবির গল্প যেহেতু আমার এবং একই সঙ্গে কাস্টিং ডিরেক্টরও যেহেতু আমি, ফলে আমার মধ্যে অনিন্দ্য চরিত্রটিতো মাথায় গেঁথেছিলো। অনেকদিন ধরে ভাবছিলাম এই চরিত্রে কাকে নেয়া যায়, খুঁজছিলামও আমরা। ‘যাযাবর’ এর চরিত্রগুলো মাথায় নিয়ে নায়ক নায়িকা খুঁজতে খুঁজতে একসময় পেয়ে গেলাম অনিন্দ্যকে, বহুদিন অপেক্ষার পর। তাকে দেখেই আমি ঠিক করে ফেলি, যাকে এতোদিন ধরে খুঁজছিলাম এই সেই ছেলে।
তাকে কোথায় পেলেন?
এটা একটা কাকতালীয় ব্যাপার। অনিন্দ্য চরিত্রের জন্য আমি যেরকমটা কল্পনা করেছিলাম, খুঁজে পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে দিনের পর দিন কিন্তু ঠিক তেমনি পেলাম। তার নাম রকি খান। আর সেইসঙ্গে আরেকটি জিনিষও মিলে গেল, দেখলাম সে থিয়েটারে অভিনয়ও করে! প্রাচ্যনাটের স্টুডেন্ট এবং বহুদিন ধরে এই থিয়েটারে কাজ করছে। তখনতো আরো সহজ হয়ে গেল বিষয়টি। তবে তার যদি অভিনয় ব্যাকগ্রাউন্ড নাও থাকতো, তবুও আমি ‘যাযাবর’ সিনেমায় তাকেই কাস্ট করতাম। যদিও এই চরিত্রের জন্য বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে রকিকে।
‘যাযাবর’ এর কাজ কবে থেকে শুরু করেছিলেন?
‘পাঠশালা’র পোস্ট প্রোডাকশন যখন চলছিলো তখন থেকেই মূলত ‘যাযাবর’ নির্মাণের প্রাথমিক ভাবনা শুরু, যদিও এই সিনেমার স্ক্রিপ্টটি ২০১৪-২০১৫ সালের দিকে লেখা। ‘পাঠশালা’ যখন সবকিছু সম্পন্ন করে বিভিন্ন ফেস্টিভালে জমা দিচ্ছি, তখন সেই সময়টাকে ব্যবহার করতে চাইলাম। ভাবলাম বসে না থেকে কাজ শুরু করে দেই। ২০১৬ সালে ‘যাযাবর’ এর গানের কাজ শুরু করি। এরপরে কাস্টিংসহ অন্যান্য সবকিছু রেডি করে সিনেমার নব্বই ভাগ শুট শেষ করেছি গত বছর।
এই বছরে দুই ঈদের মাঝামাঝিতে ‘যাযাবর’ মুক্তির কথা ভাবছেন, কিন্তু ঈদে কেন নয়?
আমরা আসলে বড় কোনো সিনেমার সাথে প্রতিযোগিতায় যেতে চাই না। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, এই ছবিটা দেখতে মানুষ হলে যাবে। বা একজন ছবিটা দেখে অন্য মানুষকে উৎসাহিত করবে ছবিটি দেখতে। যাযাবর এই শ্রেণির একটি ছবি। সিনেমা হলে যখন বড় ছবিগুলো থাকবে না, তখন একটু শান্ত সময়ে ছবিটি মুক্তি দিতে চাই।
‘পাঠশালা’ যে জনরার ছবি, তার থেকে পুরো ভিন্ন জনরা ‘যাযাবর’, এটি প্রেম ও গানের ছবি। এমন সুইং কেন?
এই সুইংটা আসলে অবধারিতই ছিলো। মানে আমরা জানতাম যে আমরা এমন সিনেমার পর এমন একটি সিনেমাই করবো। আর আমরা আসলে টাইপড কোনো জনরার হতে চাই না। আমি ব্যক্তিগত ভাবেতো চাই ই না। আর গান নিয়ে সিনেমা করার আরেকটি কারণ হতে পারে, আমি নিজে একজন মিউজিশিয়ান। ‘রাজত্ব’ নামে একটি ব্যান্ডও আছে আমার। আসিফ প্রায়ই আমাকে বলতো যে, মিউজিক নিয়ে একটা আদ্যোপান্ত স্ক্রিপ্ট লিখো। তারই প্রতিফলন আসলে ‘যাযাবর’।








