চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

সাগরতলে সাবমেরিন ইন্টারনেট লাইন কি এখন ইরানের নতুন অস্ত্র?

চ্যানেল আই অনলাইনচ্যানেল আই অনলাইন
৮:১১ অপরাহ্ণ ১৬, মে ২০২৬
- সেমি লিড, আন্তর্জাতিক
A A
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের গণমাধ্যম ও দেশটির কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহল এখন হরমুজ প্রণালিকে শুধু জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক ইন্টারনেট যোগাযোগের একটি কৌশলগত রুট হিসেবেও তুলে ধরছে। তারা মনে করে, ইরানের নতুন চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার লুকিয়ে আছে হরমুজ প্রণালির পানির নিচ দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক ডেটা ক্যাবলসে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এই আলোচনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষের পর ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।

ইরানের গণমাধ্যম ও কট্টরপন্থি রাজনৈতিক মহলের ওই বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির নীচ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ক্যাবলসের ওপর ইরান নজরদারি বা তদারকি করতে পারে।

অর্থাৎ, এসব ক্যাবলসের নিরাপত্তা ও ব্যবহারের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এমনকি এগুলো ব্যবহারের জন্য ফিও আদায় করতে পারে।

যদিও বাস্তবে এমন পদক্ষেপ নিতে গেলে ইরানকে অনেক আইনি ও প্রযুক্তিগত বাধার মুখে পড়তে হবে, তবুও এই আলোচনা এটিই প্রমাণ করে যে দেশটি শুধু তেলবাহী ট্যাংকার নয়, এবার গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোকেও কৌশলগত চাপ তৈরির উপায় হিসেবে বিবেচনা করছে।

কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে হরমুজ প্রণালি
Reneta

হরমুজ প্রণালি বিরোধে নতুন ইস্যু?

দশকের পর দশক ধরে হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কারণ, সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল এই সরু জলপথ দিয়েই যাতায়াত করে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি গত আটই মে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবলসকে চাপ প্রয়োগের সম্ভাব্য হাতিয়া হিসেবে ব্যবহারের ধারণাটিকে সামনে আনে। এসব কেবল ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও আর্থিক তথ্য আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার টাটা কমিউনিকেশনসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্যালকন, জিবিআই ও টিজিএন-গালফ’সহ বেশ কয়েকটি বড় ক্যাবলস নেটওয়ার্ক হরমুজ প্রণালি দিয়ে গেছে। এগুলোর মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চল, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান হয়।

বিশেষ করে টিজিএন-গালফ কেবল ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও সৌদি আরবকে বৈশ্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ফার্স নিউজ এজেন্সি জোর দিয়ে এও বলেছে যে গুগল, মেটা, মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি এসব ক্যাবলসের ওপর নির্ভরশীল।

তাদের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের নেটওয়ার্ক এসডব্লিউআইএফটি-ও হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া এই অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে।

হরমুজ প্রণালির অবস্থানের কারণে তেল পরিবহন রুটের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা পরিবহন রুটের ওপরও ইরানের ভৌগোলিক প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, “যদি বিংশ শতাব্দীতে তেল যদি হয় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি, তাহলে একবিংশ শতাব্দীতে সেই জায়গা নিয়েছে ডেটা।”

দক্ষিণ ইরানে ২০২৪ সালে একটি নৌ-কুচকাওয়াজের সময় তোলা ছবিতে ইরানের ছোট ও দ্রুতগতিতে আক্রমণকারী নৌকার একটি বহর দেখা যাচ্ছে।

আইআরজিসি’র ঘনিষ্ঠ আরেক গণমাধ্যম মাশরেক নিউজও একই কথা বলছে। তারা সমুদ্রতলের ক্যাবলস “ইরানের নীরব অস্ত্র” বলে হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তাদের দাবি, এই অবকাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ও তার মিত্রদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এই আলোচনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলছেন যে তেহরান তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করছে। এর আগে তারা বারবার অভিযোগ করছেন যে উপসাগরীয় কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে “নতুন সমীকরণে” ডিজিটাল অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক চাপের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইরানের সংসদ সদস্য এশান ঘাযিযাদেহ হাশেমি গত দোসরা মে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে বলেন, আইনপ্রণেতারা নতুন একটি “অ্যাকশন প্ল্যান” তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলপথে সমুদ্রতলের ডেটা ক্যাবলস নিয়ে কোনো কাজ করতে হলে আগে অবশ্যই ইরান সরকারের অনুমতি নিতে হবে।

এর মধ্যে সেই ক্যাবলস কোথা দিয়ে যাবে, কীভাবে বসানো হবে, কীভাবে পরিচালনা বা মেরামত করা হবে, কিংবা পরে এর পথ পরিবর্তন করা হবে কি না– এসব বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এছাড়া, এসব কাজের জন্য ইরানকে সার্ভিস চার্জও দিতে হতে পারে বলে তিনি জানান।

বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়

সাবমেরিন ক্যাবলস-ই কেন?

এপ্রিলের শেষদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় ৯৯ শতাংশ সাবমেরিন ক্যাবলসের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।

টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফি জানিয়েছে, এইই-ওয়ান, ফ্যালকন ও গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্কের ক্যাবলস হরমুজ প্রণালি দিয়ে গেছে।

ফলে ওই এলাকায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ইন্টারনেট, ব্যাংকিং কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি লিখেছে, সমুদ্রতলের এই ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়।

সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, এসব নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটলে কয়েক দিনের মধ্যেই “কয়েক কোটি বা শত কোটি ডলারের” অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। আর সে কারণেই বিষয়টি এখন শুধু প্রযুক্তিগত ইস্যু নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, পারস্য উপসাগরের সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবলসকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে তেহরান।

ঠিক কী করার কথা বলা হচ্ছে?

ইরানের কট্টরপন্থী গণমাধ্যম ও সরকারঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা সরাসরি সাবমেরিন ক্যাবলস কেটে দেওয়া বা দখল করার কথা বলেননি। বরং তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল ক্যাবলস ব্যবহারের ওপর টোল আদায়, ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মকানুন প্রয়োগ।

তাদের যুক্তি, হরমুজ প্রণালির একটি অংশ ইরানের জলসীমায় এবং অন্য অংশ ওমানের নিয়ন্ত্রণে। তাই এই পথ দিয়ে যাওয়া সমুদ্রতলের অবকাঠামোর ওপর তেহরান আইনগত ও সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে পারে।

ইরানের এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে ফার্স নিউজ এজেন্সি কয়েকটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবমেরিন ক্যাবলস স্থাপনে অনুমতির বাধ্যবাধকতা, ক্যাবলস চলাচলের জন্য ফি নির্ধারণ এবং ক্যাবলস মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ইরানের ভূমিকা বাড়ানো।

তাদের মতে, এর মাধ্যমে ইরান অর্থ আয়ও করতে পারে। সাধারণত সাবমেরিন ক্যাবলস একাধিক ফাইবার অপটিক তার দিয়ে তৈরি হয়, যেগুলোকে স্টিল, ইনসুলেশন ও পলিথিনের স্তর দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়। এতে চাপ, ক্ষয় বা বাইরের ক্ষতি থেকে ক্যাবলস রক্ষা পায়।

ফার্স নিউজ এজেন্সি বলেছে, সমুদ্রতলের সাবমেরিন ক্যাবলস মেরামত করা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। এর আগে রয়টার্স ও টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষকেরাও একই বিষয় উল্লেখ করেছিলেন।

সংবাদমাধ্যমটি আরও লিখেছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ক্যাবলস মেরামত করা বিশেষভাবে কঠিন। কারণ, সেখানে মেরামতকারী জাহাজ পরিচালনার জন্য অনুমতি, নিরাপদ সমুদ্রপথ এবং স্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রয়োজন হয়।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এসব ক্যাবলস ব্যবহারকারী বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানের নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে।

ফার্সের দাবি, এসব প্রস্তাব “বাস্তবসম্মত” এবং হরমুজ প্রণালিকে শুধু জ্বালানি পরিবহনের পথ নয়, বরং ইরানের ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক শক্তির অংশ হিসেবে গড়ে তোলা উচিৎ।

তাদের মতে, এতে ইরানের বৃহত্তর কৌশলও বাস্তবায়িত হবে। কারণ এর ফলে দেশের প্রচলিত সামরিক শক্তির বাইরে গিয়ে বিভিন্ন বিকল্প উপায়ে প্রভাব ও চাপ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় তেল রপ্তানি করা হয়

ইরানের কি সত্যিই এমন আইনি ক্ষমতা আছে?

আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমগুলো মূলত সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন নিয়ে ইরানের নিজস্ব ব্যাখ্যার ওপর জোর দিচ্ছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশ প্রায় পুরোপুরি ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে পড়ে।

তাদের যুক্তি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের অধিকার থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে উপকূলীয় দেশগুলোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বা সার্বভৌম ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।

তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, বৈশ্বিক যোগাযোগ অবকাঠামো বা ডেটা প্রবাহের ওপর ইরানের এত বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি সহজে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

অর্থাৎ, ইরান চাইলে একতরফাভাবে পুরো ডেটা চলাচলের ওপর সীমাহীন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারবে, এমন ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিক আইন সমর্থন নাও করতে পারে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো বড় শক্তিগুলো সম্ভবত বৈশ্বিক ইন্টারনেট অবকাঠামোর ওপর ইরানের একতরফা নিয়ন্ত্রণ বা ফি আরোপের চেষ্টা মেনে নেবে না।

এক্ষেত্রে বাস্তব কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। জাহাজের মতো সমুদ্রতলের ক্যাবলস সবসময় নজরদারিতে রাখা সহজ নয়। এছাড়া এসব ক্যাবলস সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জটিল আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে এতে হস্তক্ষেপ করলে ব্যাপক আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান আগে যেভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে বা কঠোর অবস্থান নিয়েছে, সেটি দেখে ধারণা করা যায় যে তেহরান হয়তো পূর্ণ আইনি স্বীকৃতির অপেক্ষা না করেই সাবমেরিন ক্যাবলস নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকেও চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে।

হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে

কেন এখন এই আলোচনা সামনে আসছে?

এখানে সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। এমন এক সময়ে এই আলোচনা সামনে এসেছে, যখন ইরান হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল সামনে আনছে। একই সঙ্গে তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে যে ওয়াশিংটন হরমুজের আশপাশে এক ধরনের অবরোধমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের রাজনৈতিক বক্তব্যে শুধু সমুদ্রপথের হুমকিই নয়, অর্থনৈতিক, সাইবার ও প্রযুক্তিগত বিষয়ও ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

একই সঙ্গে কট্টরপন্থীরা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা বাড়িয়েছে।

তাদের অভিযোগ, এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে।

গত আটই মে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরবিতে একটি অস্পষ্ট সতর্কবার্তা পোস্ট করেন।

সেখানে তিনি লেখেন, “সিংহের ধারালো দাঁত দেখা গেলে কখনো ভাববেন না যে সিংহটি হাসছে।”

এমন পরিস্থিতিতে ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়ে এই আলোচনা অনেকটা এমন বার্তা দিচ্ছে যে, তেলবাহী ট্যাংকারের বাইরে ইরানের হাতে আরও বিস্তৃত কৌশলগত চাপ প্রয়োগের উপায় রয়েছে।

সমুদ্রে টহল দিচ্ছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

এই ধারণা কতটা বাস্তবসম্মত?

আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বা এর ওপর কর আরোপের চেষ্টা করতে গেলে ইরানকে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। এমন পদক্ষেপ দেশটিকে আরও বিচ্ছিন্নও করে তুলতে পারে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে।

এতে ইরানের নিজেদের জন্যও ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে সাবমেরিন ক্যাবল অবকাঠামোতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে ইরানের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু এই ধারণা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কৌশলগত হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোকে যুক্ত করে ইরানের কট্টরপন্থীরা সম্ভবত এই বার্তাই দিতে চাইছে যে ভবিষ্যতের উত্তেজনা শুধু সমুদ্রপথ বা তেলবাহী জাহাজেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা সাইবার জগৎ ও বৈশ্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে এই আলোচনায় থেকে দেখা গেল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি পাল্লা দেওয়া সম্ভব না বিধায় ইরান কীভাবে বিকল্প উপায়ে চাপ প্রয়োগ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার কৌশল ভাবছে। অর্থাৎ, তেহরান এখন এমন সব উপায় খুঁজছে, যেগুলোর মাধ্যমে সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াই কৌশলগত প্রভাব তৈরি করা যায়।

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: ইরানইরান যুদ্ধপারস্য উপসাগরসাবমেরিনসাবমেরিন ইন্টারনেট লাইন
শেয়ারTweetPin1

সর্বশেষ

নাহিদকে বিগ ব্যাশে দেখতে চান অ্যালেক্স ক্যারি

জুন ১০, ২০২৬

কার্ডিফের ২১ বছর পর মিরপুরে ইতিহাস, বাংলাদেশের চোখ এবার সিরিজ জয়ে

জুন ১০, ২০২৬

আলোচনায় সাইমন, ‘অ্যানি’-তে যুক্ত হলেন যেভাবে

জুন ৯, ২০২৬

”বিশ্বশান্তি নিশ্চিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এক অনন্য উদ্যোগ”

জুন ৯, ২০২৬

আর্জেন্টিনার সঙ্গে ‘বিশেষ’ ম্যাচের অপেক্ষায় আলাবা

জুন ৯, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2026 Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT