১৪ টি-টুয়েন্টির দুটিতে জয়। কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আসলেই ২০ ওভারের ক্রিকেট খেলাটা যেন ভুলে যায় শ্রীলঙ্কা। নিধাস ট্রফির প্রথম ম্যাচে এই পরিসংখ্যানটা আরেকটু উন্নত করতে ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার করতে হবে ১৭৫।
ভারত এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে রোহিত শর্মা (০) আর সুরেশ রায়নাকে (১) হারালেও শেখর ধাওয়ান ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে (৯০) দলকে লড়াইয়ের স্কোর গড়ে দেন। দলটি ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে।
মনিষ পাণ্ডেকে নিয়ে ধাওয়ান ৯৫ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামলান। এরপর রিশভ পান্টকে নিয়ে আরেকটি ৪৯ রানের আরেকটি জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ছয়টি চার, ছয়টি ছয়ে ৯০ করে বিদায় নেন। এর আগে টি-টুয়েন্টিতে ধাওয়ানের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৮০ রানের।
শ্রীলঙ্কা দলের অবস্থা যা-ই থাকুক না কেন, ফিল্ডিংটা তারা বরাবর ভালো করে। এদিন পাওয়ার প্লেতেও সেই প্রদর্শনী। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে দুশমন্ত চামিরার ‘চালাকি’তে রোহিতের আউট হওয়ার পেছনে ওই ফিল্ডিংয়ের ভূমিকা অনেকখানি।
চামিরা গুডলেন্থে স্লো ডেলিভারি দিয়েছিলেন। বল রোহিতের অনুমানের চেয়ে একটু বেশি লাফায়। বড় শট খেলতে গিয়ে ভারতীয় অধিনায়ক আকাশে উঠিয়ে দেন। মিডঅফ থেকে ছুটে ডাইভ দিয়ে সেই বল তালুবন্দি করেন জীবন মেন্ডিস। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয় তিনটি ওয়ানডে ডাবল সেঞ্চুরির মালিককে।
মাঝখানে বেশ কয়েকদিন বিরতি দিয়ে সাউথ আফ্রিকা সিরিজে টি-টুয়েন্টি দিয়ে দলে ফেরা সুরেশ রায়না এদিন যা করেন, তাতে বিশ্বকাপ দল থেকে তাকে বাদ দিতে এই ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ হাজির করতে পারেন ভারতীয় নির্বাচকরা। ক্রিজে বারবার শাফল করছিলেন। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলটি নুয়ান প্রদীপ ফুলটস মারেন। রায়না সেটি লেগে রুম করে খেলতে গিয়ে পরিষ্কার বোল্ড!
টসের সময় দুই অধিনায়কই বলছিলেন এটি স্কোরিং উইকেট। পিচ রিপোর্টের সময় ব্রেট লিও বলে যান, উইকেট তার কাছে যারপরনাই ফ্ল্যাট মনে হয়েছে। কিন্তু ধাওয়ান আসার আগ পর্যন্ত সেটি মনে হয়নি। লেগসাইড ব্যবহার করে দারুণ দারুণ সব শট খেলে দলকে পথে রাখেন।
তিনি বিদায় নেন ১৮তম ওভারের শেষ বলে। লেগসাইডের বড় শট থেকে মুক্তি পেতে গুনাথিলাকা অফস্টাম্পের বাইরে বল পিচ করান। ধাওয়ান সেটিতে বড় শট খেলতে গিয়ে লংঅফে পেরেরার হাত ধরা পড়েন।
ধনঞ্জয়া ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৩৭ রান দিয়ে উইকেটহীন। নুয়ান প্রদীপ, দুশমন্ত চামিরা, জীবন মেন্ডিস এবং দানুস্কা গুনাথিলাকা একটি করে উইকেট নেন।
ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা, সুরেশ রায়না, মনিষ পাণ্ডে, দিনেশ কার্তিক, রিশভ পান্ট, ওয়াশিংটন সুন্দর, বিজয় শঙ্কর, শারদুল ঠাকুর, জয়দেব উনাদকাট, যুবেন্দ্র চাহাল।
শ্রীলঙ্কা একাদশ: উপুল থারাঙ্গা, দানুস্কা গুনাথিলাকা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, কুশল জেনিথ পেরেরা, দাসুন শানাকা, থিসারা পেরেরা, জীবন মেন্ডিস, আকিলা ধনঞ্জয়া, দুশমন্ত চামিরা, নুয়ান প্রদীপ।







