কয়েক মাস প্রচারণার পর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রিন্স হ্যারির আত্মজীবনী গ্রন্থ “স্পেয়ার” অবশেষে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে বিক্রির জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে। প্রিন্স হ্যারির মা প্রিন্সেস ডায়ানার আত্মজীবনীর পরে বহুল প্রতীক্ষিত হিসেবে বিবেচিত এই রাজকীয় গ্রন্থ বাজারে এসেছে।
বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
হ্যারির আত্মজীবনীর প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৪টি টেলিভিশন চ্যানেল প্রচার করে, যেখানে তিনি তার স্ত্রী মেগানের সাথে উপস্থিত ছিলেন। বইটি অডিওবুক আকারে ১৬টি ভাষায় পাওয়া যাবে, যার কপিগুলি স্পেনে ইতোমধ্যে ফাঁস হয়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বইটি সংগ্রহ করতে পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
১৯৯২ সালে প্রিন্স হ্যারির মা প্রিন্সেস ডায়ানার আত্মজীবনী “ডায়ানা: হার ট্রু স্টোরি” প্রকাশের সময়ও যুক্তরাজ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছিল। বইটি সেই সময়কার সবচেয়ে বড় রাজকীয় বই হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রিন্স হ্যারির আত্মজীবনীটি ডায়ানার পর প্রকাশিত বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় রাজকীয় বই।
আত্মজীবনীতে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে ভাই প্রিন্স উইলিয়াম এবং তাদের পিতা রাজা ৩য় চার্লসের বিষয়ে কিছু উদ্ধৃতি বিব্ব্রতকর পরিস্থিতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ বিভিন্ন মিডিয়া হ্যারির দাবিগুলিকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষন করে পাঠকদের সামনে তুলে ধরছে।
হ্যারি তার সৎমা ক্যামিলা পার্কারকে উদ্দেশ্য করে মার্কিন নেটওয়ার্ক সিবিএস-এ একটি সাক্ষাত্কার প্রদানের পরে তা ক্যামিলার জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চার্লস এবং ডায়ানার সর্ম্পকের মধ্যে “অন্য মহিলা” হিসাবে দীর্ঘকাল ধরে আলোচিত ক্যামিলা পার্কারকে সেই সাক্ষাতকারে হ্যারি “খলনায়ক” বলে অভিহিত করেছিলেন।
তবে প্রিন্স হ্যারি বা মেগান কেউ রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ করেননি জানিয়ে বিষয়টি পরিস্কার করেছেন।
বইটি প্রকাশের পর নতুন বছরের বাকি মাসগুলোতে বইটি নতুন করে আর কী কী বিতর্কের সৃষ্টি করে এবং রাজ পরিবারের বাকি সদস্যরা তা কিভাবে মোকাবেলা করেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।








