ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে যে মায়ের মুখের ভাষা, সেই বাংলা ভাষা চর্চা বেগবান করতে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বাঙালি জীবনে নানা ধরণের মেলার মধ্যে এটিই আমাদের জাতির ঐতিহ্য ও জ্ঞানভিত্তিক সবচেয়ে বড় মেলা। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই মেলা চলে মাসব্যাপী। হাজার হাজার নতুন বই প্রকাশ আর লাখ-কোটি মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয় মেলা প্রাঙ্গণ। সেই ধারাতে এবছর মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলা উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাহিত্য চর্চা পারে যুব-সমাজকে সঠিক পথে ধরে রাখতে। বই পারে আমাদের চিন্তা চেতনাকে বিকশিত করতে। আজ আমরা অসাম্প্রদায়িক জাতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি, আর কখনও বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না। বইমেলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি সর্ম্পকেও বলেছেন, একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু আমাদের শহীদ দিবসই নয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। গত কয়েকবছর ধরেই মেলার প্রসার ও ব্যপ্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ভেতরে বসছে এই মাসব্যাপী মেলা। মেলাকে কেন্দ্র করে হ্নদয়ের মিলনমেলাও বসে এখানে। নতুন বইয়ের গন্ধ আর ফাগুনের আগমন ধ্বনিতে অসাম্প্রদিক বাংলাদেশ, সম্প্রীতি আর জ্ঞান চর্চার এই মেলা যেনো এক প্রাণের উৎসব। কয়েকবছর আগে মেলা প্রাঙ্গণের বাইরে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের কালোছায়া কিছুটা শঙ্কা ছড়ালেও বর্তমানে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও নজরদারিতে তা অনেকটাই দূর হয়েছে। মেলার শান্তিপূর্ণ ধারা অব্যাহত রেখে প্রাণের এই মেলায় বই কিনুন, বই পড়ুন আর বেশি বেশি বই পড়ার মাধ্যমে আলো ছড়াক বাঙালির জীবনে, এই আমাদের প্রত্যাশা।









