২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপনকালে তিনি বলেন, এবার শিক্ষাখাতে বরাদ্দ সর্বোচ্চ ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। দেশের সবক’টি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথাও জানান।
পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের প্রতিটি উপজেলায় কর্মসংস্থান বান্ধব টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
বাজেট উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিবছর বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তকসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে স্নাতক ও সমপর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান, দারিদ্রপীড়িত এলাকায় স্কুল-ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সহায়ক পরিবেশে নিশ্চিত করা, বিভিন্ন ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার পুস্তক মুদ্রণ, প্রাক-প্রথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, সৃজনশীল মেধার মূল্যায়ন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গঠন, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত কমিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রদান, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ ইত্যাদি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, প্রথমিক পর্যায়ে সার্বজনীন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মাধ্যমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি সৃজনশীল-কর্মমুখী-বিজ্ঞানভিত্তিক-উৎপাদন সহায়ক শিক্ষার প্রসারের ওপর। ই-বুক প্রচলন করা হয়েছে, ১২৫টি উপজেলায় ‘উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং এ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং আরো ১৬০টি উপজেলায় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান আছে, ৩১৫টি উপজেলায় ১টি করে বেসরকারি বিদ্যালয়কে মডেল বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছে, ২৬ হাজার ৬৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৯০ হাজার শিক্ষক এবং ১ হাজার ৫০০ মাস্টার ট্রেনারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। টিচার্স পোর্টালে ৬২ হাজার কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহার করে শিক্ষকগণ নিজেরাই কনটেন্টের মানোন্নয়ন করতে পারছেন। মোট ৮ লক্ষ শিক্ষককে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ‘জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছে।








