যদিও বিষয়টা জনগণ অনেক আগে থেকেই জানেন, তবুও সেই পুরনো কথা আরেকবার স্মরণ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন: ‘আমার কোনো চাওয়া পাওয়া নেই, জনগণ কী পেল সেটাই আসল। জাতির পিতার স্বপ্নপূরণই আমার লক্ষ্য। আমি কোন সংবর্ধনা চাই না, জাতির পিতার স্বপ্নের দেশ গড়তে কাজ করছি এটাই আমার সবচেয়ে বড় উপহার।’
আমরা মনে করি, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন এবং নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় দু’টি অর্জন। এছাড়া গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড, কলকাতা থেকে ডি-লিট উপাধি পাওয়াসহ নানা সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া গণসংবর্ধনা তার পাওনা ছিল। কারণ তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এসব অনন্য অর্জনের দিকে এগিয়ে গেছে।
তিনি দেশের জন্য কতোটা কাজ করেন সেটা তার আরও কিছু কথায় জানা গেছে। তিনি বলেন: ‘আমি কোনো উৎসবে যাই না। উৎসবে না গিয়ে আমি ভাবি কীভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায়। এমনকি আমি ৫ ঘণ্টা ঘুমাই, বাকি সময় জনগণের জন্য উৎসর্গ করি।’
প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশ ও জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করছেন, নিজের চাওয়া পাওয়াকে বিসর্জন দিচ্ছেন, সেভাবে কি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের উৎসর্গ করছেন? বেশিরভাগ নেতাকর্মী এমনটা করছেন না বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ শেখ হাসিনার এই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেকে জনগণের জন্য উৎসর্গ করলে প্রায় প্রতিটি সেক্টরে এভাবে হ-য-ব-র-ল অবস্থা পরিলক্ষিত হতো না। তবে আমরা আশা করি, এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের স্বার্থ, চাওয়া পাওয়া এবং সবকিছু জনগণের জন্য উৎসর্গ করবেন। তাহলেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নপূরণ করে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।








