পটুয়াখালীর সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাসকে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো তার চিঠির উত্তর সোমবার বেলা ১১টায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
চিঠিতে সহমর্মিতা প্রকাশ করে পায়রা নদীতে একটি সেতু তৈরি করে দেয়ার কথা বলে ওই শিশুকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পায়রা নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে বরিশাল ও বরগুনার সাথে সরাসরি এবং খুলনার সাথে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। সড়ক পথে দুরত্ব কমে আসবে পায়রা বন্দর ও মংলা বন্দরের মধ্যে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গড়ে উঠবে উন্নয়নের নুতন অগ্রযাত্রা। গত ১৫ সেপ্টেম্বর পায়রা নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি লিখে শীর্ষেন্দু বিশ্বাস।
শিশু শিক্ষার্থী শীর্ষেন্দু বিশ্বাস তার চিঠিতে লেখে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সালাম ও শুভেচ্ছা নেবেন। আমি দেশের একজন সাধারণ নাগরিক। নাম শীর্ষেন্দু বিশ্বাস, পিতা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, মাতা শীলা রানী সন্নামত। আমি পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। আমার দাদু অবিনাশ সন্নামত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি আপনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে উপস্থিত ছিলাম। আমি আপনার পিতার শৈশবকাল রচনা লিখে তৃতীয় স্থান অধিকার করি।
আমার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি। আমাদের মির্জাগঞ্জ নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। এটি পটুয়াখালী জেলার একটি উপজেলা। এ নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ। মানুষ ভয় পায়। কখনো নৌকা ডুবে যায়, কখনো ট্রলার ডুবে যায়। এতে আমার থেকে ছোট ভাইবোন তাদের মা-বাবাকে হারায়। আমি আমার মা-বাবাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। তাঁদের হারাতে চাই না। তাই আপনার কাছে একটাই অনুরোধ যে আপনি মির্জাগঞ্জ নদীতে ব্রিজের ব্যবস্থা করুন। তা যদি আপনি পারেন, তাহলে আমাদের জন্য একটু কষ্ট করে এই ব্রিজ তৈরির ব্যবস্থা করুন। আজ আর নয়। ইতি, আপনার দেশের একজন সাধারণ নাগরিক, শীর্ষেন্দু বিশ্বাস।
১৫ আগস্টে লেখা এই চিঠিটি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর দিয়ে উত্তর পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, স্নেহের শীর্ষেন্দু, তুমি শুধু দেশের একজন সাধারণ নাগরিক নও। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার অগ্রজ সৈনিক। আমি জানি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীটি অত্যন্ত খরস্রোতা। নিজের পিতা-মাতাসহ অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই নদীকেন্দ্রিক তোমার নিরাপত্তাসচেতনতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি বুঝতে পারি তোমার বীর মুক্তিযোদ্ধা দাদুর প্রভাব রয়েছে তোমার ওপর। মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে বলে তোমাকে আশ্বস্ত করছি। চিঠির জবাবের শেষের দুই লাইনে প্রধানমন্ত্রী শীর্ষেন্দুসহ তার পরিবারের সবার মঙ্গল কামনা করেন।
২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী দেওয়া চিঠির উত্তর স্কুলে পৌঁছায়।










