এশিয়া কাপের ফর্ম টি২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। মিশনের
প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে
সামনে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ঘন ঘন রং পাল্টানো আয়ারল্যান্ড।
প্রথম ম্যাচে
ওমানের কাছে প্রায় জেতা ম্যাচ হেরে ব্যাকফুটে রয়েছে আইরিশরা। তবে
সাম্প্রতিক পারফম্যান্স যাই হোক মাঠের লড়াইয়ে আয়ারল্যান্ড খুবই বিপজ্জনক
দল। আইরিশরা মুহূর্তের মধ্যেই রীতিমতো ঘাম ছুটিয়ে দিতে পারে আইসিসির পূর্ণ
সদস্য যেকোনো দলেরই।
২০০৭ সালে প্রথম পাকিস্তানকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। এরপর ২০১০ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ, ২০১১ সালে ইংল্যান্ড এবং ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায় আইরিশরা।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ দলে কিছুটা হলেও অস্বস্তি। টাইগার দলের বোলিংয়ের অন্যতম দুই অস্ত্র পেসার তাসকিন আহমেদ ও স্পিনার আরাফাত সানিকে ‘সন্দেহজনক’ বলে অভিযোগ করেছে আইসিসি। যদিও আইসিসির সন্দেহে বিস্ময় প্রকাশ করে উল্টো সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দলের কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে।
বাংলাদেশ ম্যাচে আরেকটি দিক দিয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকবে আয়ারল্যান্ড। ধর্মশালার মতো ঠান্ডা আবহাওয়া তাদের পরিচিত। এছাড়া দিনের শেষে হালকা কুয়াশায়ও তারা বেশ অভ্যস্ত। তবে প্রথম ম্যাচে সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশও নিজেকে প্রমাণ করেছে।
হিসেব-নিকেশে এগিয়ে থাকলেও বর্তমান বাংলাদেশের ব্যাটিং-বোলিং বড় পরীক্ষাই নেবে আয়ারল্যান্ডের। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে প্রায় একা হাতে দলকে জয় এনে দিয়েছেন তামিম ইকবাল। এছাড়া ওই ম্যাচে যারা ভালো রান পাননি সেই সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমান তাদের যে কারো ঝড়ের মুখে পরতে পারে আয়ারল্যান্ড।
তাছাড়া টাইগার বোলাররাও কম এখন কম যাবেন না। এই ম্যাচেও সেই রকম পারফরম্যান্সের আশা করছে টিম টাইগার্স। তবে আয়ারল্যান্ডকে যদি হারাতে হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আরো বড় দায়িত্ব নিতে হবে।
এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তারপরও ম্যাচের শেষ পর্যন্ত তারা মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য অপেক্ষা করতে পারে। এছাড়াও বোলিং অ্যাকশনে সন্দেহের কারণে যদি তাসকিন আহমেদ না খেলতে পারেন তাহলে দলে ডাক পেতে পারেন বাঁ হাতি পেসার আবু হায়দার রনি।
অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড দলে একটি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। পেসবান্ধব ধর্মশালার পিচে একমাত্র স্পিনার হিসেবে তাদের দলে ফিরতে পারেন জর্জ ডকরেল।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে লাইমলাইটে থাকবেন অনেকেই। দুই ওপেনারের সঙ্গে ইনফর্ম সাব্বির রহমান ও মিস্টার ফিনিশার খ্যাতি পাওয়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এশিয়া কাপের পর প্রথম ম্যাচেও রান খরায় ভোগা মুশফিক-সাকিব। এই ম্যাচে ২১ রান করলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০০০ রান করবেন সাকিব। একই মাইলফলক স্পর্শ করতে তামিমের দরকার ৫৮ রান।
আর বোলিং তাসকিন আহমেদ ও আল-আমিন দুজনেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন। তবে দলের সেরা পেস অস্ত্র মুস্তাফিজ দলে ফিরলে তা বড় চ্যালেঞ্জ হবে আইরিশদের জন্য।
আয়ারল্যান্ডের হয়ে লাইমলাইটে থাকবেন অধিনায়ক উইলিয়াম পোটারফিল্ড, দুই ভাই কেভিন ও নীল ও’ব্রায়েন। এছাড়া বোলিংয়ে বাংলাদেশের জন্য বাধা হতে পারেন বয়েড র্যা নকিন ও ক্রেইগ ইয়ং।
অনেক দিকের মতো সাম্প্রতিক পারফর্মেন্সেও আয়ারল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জিতেছে টাইগাররা। বিপরীতে আইরিশদের জয় দুটিতে।
তবে টি২০তে দুই দলের প্রথম সাক্ষাতেই বাংলাদেশকে হারিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। ২০০৯ টি২০ বিশ্বকাপে ট্রেন্ট ব্রিজে আইরিশরা জিতেছিল ৪ উইকেটে। তবে দুই দলের পরের তিন টি২০তেই জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের সিরিজে মুশফিকুর রহিমের দল জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে।
পাহাড় ঘেরা ধর্মশালায় প্রায় ধারাবাহিকভাবে তুষারপাত হয়। প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকলে আবহাওয়া শুষ্ক। বৃহস্পবিার দিনটা ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল। আবহাওয়া আজও তেমনটাই থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া দফতর ও ওয়েদার ডটকম।
ধর্মশালার পিচ ঐতিহাসিকভাবেই বোলিংবান্ধব। প্রায় সিমেন্টের মতো শুষ্ক পিচে কিছু ঘাসও থাকবে। যথেষ্ট বাউন্সি উইকেটই পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড। ধর্মশালায় প্রথম ইনিংসের গড় রান ১৯৯। আর দ্বিতীয় ইনিংসের গড় রান ২০০।
এখানে সর্বোচ্চ ইনিংস ৩ উইকেটে ২০০ রান। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে এই রান করেছিল ভারত। তবে সেই স্কোর টপকে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ২ বল হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল প্রোটিয়ারা। এটাই ধর্মশালায় পরে ব্যাট করে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। বিভিন্ন ক্রিকেট ওয়েবসাইটের চালানো জরিপে এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ। আয়ারল্যান্ডের সম্ভাবনা সেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ।
সম্ভাব্য বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান/আরাফাত সানি, আল-আমিন হোসেন, নাসির হোসেন এবং তাসকিন আহমেদ/আবু হায়দার রনি।
সম্ভাব্য আয়ারল্যান্ড দল: উইলিয়াম পোটারফিল্ড, পল স্টালিং, গ্যারি উইলসন, কেভিন ও’ব্রায়েন, নীল ও’ব্রায়েন, অ্যান্দ্র পয়েন্টার, অ্যান্ডি ম্যাকব্রেইন, ম্যাক্স সরেনসেন, টিম মাটাখ/জর্জ ডকরেল, বয়েড নকিন, ক্রেইগ ইয়ং।






