বাংলা শব্দের বানানের ক্ষেত্রে দুটি রীতি রয়েছে, একটি প্রচলিত নিয়মে লেখা এবং অন্যটি বিধি অনুসৃত বানান। এতদিন ‘ঈদ’ বানানটি প্রচলিত নিয়ম মেনে লেখা হতো, এখন থেকে সেটা বাংলা একাডেমির বিধি মোতাবেক লেখা হবে।
বাংলা একাডেমি থেকে ‘ঈদ’ বানান ‘ইদ’ করার সিদ্ধান্ত শুনে একথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াৎ আনসারী।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: যেকোন বিদেশি শব্দ উচ্চারণেও আমাদের ই-কারের ব্যবহার নেই। বিদেশি শব্দের জন্য আমরা ই এবং ই-কার ব্যবহার করি। ইদ আরবি শব্দ, সেখানে তাই-ই হওয়াটা সঠিক। তাছাড়া শব্দটা উচ্চারণের সময়ও আমরা ‘ঈ’ ব্যবহার করি না। ই কার দিয়ে ইদই বলি।
সাখাওয়াৎ আনসারী বলেন, সংস্কৃত থেকে আসা তৎসম শব্দগুলো ছাড়া সবগুলোতেই ই এবং ই-কার ব্যবহার করা উচিত। কলকাতা বানান রীতি এবং বাংলা একাডেমি বানান রীতিতেও তা আছে।
‘এখন প্রশ্ন হলো, আমজনতা কিভাবে বুঝবে কোনটা তৎসম, কোনটা নয়? এটা পণ্ডিতদের ব্যাপার, তারা ঠিক করবেন কোনটা লেখা হবে। জনগণ যেটা দেখবে সেটাই শিখবে।’
তিনি বলেন: আজ হয়তো কেউ এই বানানটা নজরে এনেছে দেখেই শব্দটার বানানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। চীন শব্দটি বিদেশি হওয়ার পরও আমরা ঈ-কার দিয়ে লিখে যাচ্ছি। সেটা বিদেশি শব্দ, সেটা তো ই-কার দিয়ে হওয়া উচিত।
‘এতদিন হয়তো এই বানানটা কেউ খেয়াল করেনি, এখন করেছে দেখেই নজরে আসছে। এভাবে প্রচলিত বানানগুলোকে বিধি অনুসৃত বানানে পরিবর্তন করা হবে।’








