বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা খারাপ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে বলে
জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সাভারের রানা প্লাজা
ধসের দুই বছর পূর্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায় শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেওয়া হয় না।
বুধবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা কেবল অস্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশের মুখোমুখিই হয় না বরং তাদের জন্য পোশাক শিল্প মালিকরা কোনো নিয়ম কানুনও মেনে চলে না।
সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর ফিল রবার্টসন বলেন, বাংলাদেশ যদি রানা প্লাজার মতো আর একটি দুর্ঘটনা না চায় তাহলে শ্রমিক আইন জোরদার করতে হবে। পোশাক শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ এবং তাদের অধিকার নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা চাকরি হারানোর ভয় ছাড়াই জানানোর সুযোগ দিতে হবে।
যেসব পোশাক শিল্প ম্যানেজার শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠনের অধিকারকে হরণ করে তাদের নিবৃত না করলে সরকার রানা প্লাজার মতো প্রাণহানীকর ঘটনাকে আরো চিরস্থায়ী করে তুলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৭৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ৪৪টি পোশাক কারখানার ১৬০ জন শ্রমিকের সাক্ষাতকার রয়েছে। যাদের তৈরি করা পোশাক উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপে রপ্তানী করা হয়। অথচ দেশের ভেতরে কাজ করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত এমন নিগৃহীত হচ্ছে।
এতে বলা হয়, পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করা হয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করে তারা, পাশাপাশি ভোগ করে শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনা। জোর করে ওভারনাইট ডিউটি করানো হয়। নারী শ্রমিকদের মাতৃকালীন ছুটি নেই। সঠিক সময়ে বেতন ও সম্পূর্ণ বোনাস নেই। এমনকি স্বাস্থ্যকর খাবার পানি ও টয়লেটে যাওয়ার ব্রেকও দেয়া হয়না শ্রমিকদের।
শ্রমিকদের প্রতি এমন অবহেলার কারণেই ঘটেছিলো রানা প্লাজার মতো ঘটনা। ভবনে বিশাল ফাটল দেখা যাওয়ার পরও রানা প্লাজার সুপারভাইজার শ্রমিকদের ফ্যাক্টরি ছেড়ে বের হতে দেয়নি।
গাজীপুরের একজন শ্রমিক নেতা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, যখন কয়েকজনকে সাথে নিয়ে তিনি একটি ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টা করেন তখন তাকে লাঞ্ছিত হতে হয়। তার সঙ্গে যোগ দেওয়ায় কয়েকজন পোশাক শ্রমিককে চাকরি থেকে ছাঁটাইও করা হয়।
প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থাটি বাংলাদেশের সরকার, পোশাক শিল্প মালিক এবং পশ্চিমা ক্রেতাদের নিশ্চিত হতে বলেছেন পোশাক শ্রমিকদের অধিকার রক্ষিত হচ্ছে কিনা। একই সঙ্গে ফ্যাক্টরির মালিক ও সুপারভাইজারদের আহ্বান জানানো হয়, শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধাচরণ বন্ধের জন্য।
সেখানে বাংলাদেশ সরকারকে পোশাক শ্রমিকদের প্রতি সব ধরনের অন্যায় যেমন; শারীরিক আঘাত, ভয়-ভীতি দেখানো এবং অন্যান্য নির্যাতনের ঘটনা সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।







