পল্লবী থানায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে ইসতিয়াক হোসেন জনি হত্যায় অভিযুক্ত এস আই জাহিদসহ পাঁচ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। আগামী ১৬ মে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ঠিক করেছেন বিচারক।
বলা হচ্ছে এটিই পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলার বিচারের প্রথম উদাহরণ।
এ হত্যা মামলায় এর আগে শুনানি হয়েছিলো গত মঙ্গলবার। পাঁচদিনের মাথায় ছিলো আদেশের জন্য নির্ধারিত দিন। দুপুরের পরে মহানগর দায়রা জজ কামরুল ইমলাম মোল্লা আসামীপক্ষের অব্যাহতি আবেদন না মঞ্জুর করে এসআই জাহিদসহ পাঁচ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল আলম বলেন, এই মামলায় পুলিশ হেফাজতে আসামীর মৃত্যু হয়েছে। অথচ এটি একটি জঘন্য অপরাধ। প্রাথমিকভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে যে আসামীরা এর সঙ্গে জড়িত। এবং এজন্যই তার বিরুদ্ধে এই চার্জটা হয়েছে।
আসামীপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, পুলিশী হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাটি রাষ্ট্রপক্ষ যথাযথভাবে ভাবে প্রমাণ করতে পারেনি।
তাদের আইনজীবী ফারুক হোসেন বলেন, হেফাজতে নির্যাতনে মৃত্যু নিবারণ আইনে ১৫ এর ১, ২, ৪ এ চার্জ ফ্রেম করেছেন। এই চার্জ ফ্রেম করায় আমরা ক্ষুব্ধ। আজকের আদালতের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন করবো।
এস আই জাহিদ এবং পুলিশের এক সোর্স কারাগারে থাকলেও আসামী অন্য দুই পুলিশ সদস্য এ এস আই কামরুজ্জামান মিন্টু এবং এ এস আই রাশিদুল জামিনে থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে নিহত জনির পরিবার।
জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রনি বলেন, যে দুজন জামিনে আছে সেটা নিয়ে আমি একটু ভয়-ভীতিতে আছি। তারা তো পুলিশের লোক। তারা নানানভাবে আমাকে হয়রানি করবে এবং করছেও। আমার ওয়ার্কশপে এসেছে, আমাকে টাকা অফার করেছে। বলছে, তুমি যেভাবে হোক আমাদের দুজনকে বের করে দাও। তোমার যা লাগবে তাই তোমাকে দিবো।
পল্লবী থানায় পুলিশী হেফাজতে জনি হত্যার ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালে। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ইসতিয়াক হোসেন জনি এবং তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রনিকে তুলে নিয়ে যায় এসআই জাহিদসহ অভিযুক্ত অন্য আসামীরা। নির্যাতনে থানায় জনির মৃত্যু হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন রনি।
এরপর হাসপাতাল থেকে ফিরে পুলিশী নির্যাতনে মৃত্যু ঘটনায় হেফাজত আইনে তিনি মামলা করেন ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট।










