পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের আন্দোলনে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার (১১ মে) উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের দাবি, পদোন্নতির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ দাবিতে গত ২১ এপ্রিল থেকে তারা আন্দোলন শুরু করেন। পরে সিন্ডিকেট সভায় সমাধানের আশ্বাস পেয়ে পাঁচ দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়। তবে গত শনিবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় সোমবার থেকে আবারও শাটডাউন কর্মসূচিতে যান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা প্রশাসন ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। পরে তারা বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস ত্যাগ করতে বলেন। রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ কয়েকটি দপ্তরে তালাও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে শিক্ষকরা নিচতলা ছেড়ে গেলে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম নিজ কার্যালয়ে যান এবং বিকেল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। যদিও আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন দপ্তরে তালা দেন, উপাচার্যের কার্যালয়ে যাননি তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষক ও ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায় বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য উপাচার্যই দায়ী। তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করা হবে না। শিক্ষকদের অনেকে প্রশাসনিক পদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন বলে জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, পদোন্নতি বোর্ড গঠনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য বিষয়টি নিষ্পত্তি করেননি।
অন্যদিকে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। শিক্ষার্থীদের ক্ষতির মুখে ফেলে এ ধরনের আন্দোলন যৌক্তিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত প্রায় ৬০ শিক্ষকের অভিযোগ, অধিকাংশ শিক্ষকের পদোন্নতির নির্ধারিত সময় দুই বছর আগেই পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপাচার্যের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। জানুয়ারিতে এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পর তা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি প্রণয়ন প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জামিলুর রহমান বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে কমিশন অবগত রয়েছে। এ নিয়ে বুধবার ইউজিসিতে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।







