অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, পুঁজিবাজার উঠবে কি নামবে, আমি এটা নিয়ে কাজ করি না। কারণ আমার কাজ হচ্ছে অর্থনীতি শক্তিশালী করা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বণিক বার্তা ও সিটি ব্যাংক আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন-২০২০’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, অনেকেই সমালোচনা করছেন, সরকার ব্যাংকের উপর সুদের হার চাপিয়ে দিচ্ছে। আমেরিকাসহ অনেক দেশেই সুদ হার বাড়ায় বা কমায়। সরকার সারাজীবন ঋণের সুদের হার বেঁধে দেবে না। বাজার যখন স্থির হয়ে যাবে, তখন বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হবে।
খেলাপি ঋণ কেন বাড়বে না এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ঋণের সুদ হার যদি এত বেশি হয় তাহলে খেলাপি তো হবেই। সুদের হার বেশি এবং চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ হার নির্ধারণের কারণে দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। ফলে শিল্পায়নের সম্প্রসারণ হচ্ছে না। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সুদের হার কমিয়ে আনতে হবে, তাই এখানে হাত দেয়া হয়েছে। মার্কেট স্বাভাবিক হলে এটিও তুলে দেয়া হবে। কারণ যে দেশে সুদ হার বেশি সে দেশে বিনিয়োগ কম হয়।
সঞ্চয়পত্র নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্র করা হয়েছিল দরিদ্র এবং পেনশনভোগী মানুষের জন্য। কিন্তু এটির অনেক অপব্যবহার হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে অটোমেশনের মাধ্যমে এটি ঠিক করা হয়েছে। পোস্টাল সঞ্চয়পত্র অটোমেশনে আনার পর ঠিক করা হবে। এখানে কেউ ঠকবেন না।
তিনি বলেন, অনেকেই বলছেন, প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, কিন্তু কর্মসংস্থান বাড়ছে না। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কর্মসংস্থান না বাড়লে প্রবৃদ্ধি হয় কিভাবে? কারণ অর্থনীতি ও জিডিপি তো একে অপরের হাত ধরে চলে।
শিল্পের জন্য অনেক মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হচ্ছে। সেগুলো থেকে শুল্ক নেয়া হয়নি। তাই রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন বলেন, রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির আর কোনো সূচক ভাল নয়। তাছাড়া ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ভাল নয়।
সুদ হার কমালেই সব সমাধান হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিনিয়োগ করার জন্য পরিবেশ লাগে। বিনিয়োগের অন্যান্য উপকরণগুলো সহজলভ্য করা দরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো কোনো ক্ষেত্রে যথেষ্ট দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে মন্তব্য করে সালেহ উদ্দিন বলেন, ব্যাংকিং খাতে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন নেই। এক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অদক্ষতা রয়েছে। যোগ্যদের মূল্যায়ন হচ্ছে না।
ব্যাংকিং খাতের সুদ হার ‘নয়-ছয়’ নিয়ে তিনি বলেন, সুদ হার চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়। এটা অর্থনীতির জন্য ভাল দিক নয়। সঠিক তথ্যের ওপর ভর করেই নীতি নির্ধারণ করা উচিত।
আয় ও সম্পদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যথেষ্ট বৈষম্য রয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই গভর্নর বলেন, এ কারণে কোথাও কোথাও দারিদ্র্য রয়ে গেছে। উন্নয়ন শুধু ঢাকা-চট্রগ্রামকেন্দ্রীকই বেশি হচ্ছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রবৃদ্ধি বাড়লেই যে উন্নতি হচ্ছে, এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। অর্থনৈতিক সূচকে শুধু রেমিট্যান্সই কিছুটা বাড়ছে। কিন্তু দেশ থেকে রেমিট্যান্স যাচ্ছে কত তা ও দেখা উচিত।
খেলাপি ঋণ আন্তর্জাতিক মানে নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। রাজনৈতিক চাপে অনেক সময় ঋণ দেয়া হয়। যেগুলো পরে খেলাপি হয়ে যায়। তাছাড়া ঋণ-আমানতের সুদের ব্যবধান বাংলাদেশে কখনোই সাড়ে ৪ শতাংশের নিচে ছিল না। কিন্তু নয়-ছয়ের কারণে তা ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে ব্যাংকের আমানত কমে যাবে। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ কমবে। যার কারণে কমে যাবে কর্মসংস্থানের পরিধিও।
অদক্ষতা, দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের মেয়াদ ও খরচ বাড়ছে বলে মনে করেন ব্রাকের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান।








