নোবেল জয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করেছে ইতালীর প্রায় ১ হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী তুসকান নগরী পিস্তোইয়া। নগরীর মেয়র ১২শ শতকে নির্মিত নগরীর ঐতিহাসিক টাউন হলে ১০ মে সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রফেসর ইউনূসকে এই নাগরিকত্ব অর্পণ করেন। ইউনূস সেন্টারের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পিস্তোইয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের প্রধান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও সামাজিক উদ্যোক্তা সহ প্রায় ৩০০ উচ্চপদস্থ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র তার বক্তব্যে বলেন যে, ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে মানবতার সেবায় তার অনন্যসাধারণ অবদানের জন্য প্রফেসর ইউনূসকে এই সম্মানসূচক নাগরিকত্ব অর্পণ করা হলো।
প্রফেসর ইউনূস এই সম্মানের জন্য পিস্তোইয়ার মেয়র ও নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে নিজের জীবনকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত করার ক্ষমতা প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আছে।
তরুণদের ব্যাপারে ইউনূস বলেন, আমাদের বরং তাদের দুর্লভ চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হবার সুযোগ করে দেয়া উচিত।
তিনি বাংলাদেশে চালুকৃত ‘নবীন উদ্যোক্তা কর্মসূচি’ তাদের নিকট ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন, এই কর্মসূচির অধীনে সরবরাহকৃত মূলধনের মাধ্যমে ৫ হাজার তরুণ-তরুণী নিজেদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নিয়েছে।
পিস্তোইয়াতেও অনুরূপ কর্মসূচি চালু করার আহ্বান জানান এই নোবেল লরিয়েট। উল্লেখ্য ইতালীয় তরুণদের ৩৫ শতাংশই এখন বেকার।
ফ্লোরেন্স থেকে ৩০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত সুপ্রাচীন পিস্তোইয়া নগরী ট্রেনের বগি নির্মাণ ও রপ্তানীর জন্য প্রসিদ্ধ। এছাড়াও পিস্তোইয়া নেতৃস্থানীয় কাগজ উৎপাদক এবং পাস্তার ঢেলা তৈরী ও সমগ্র ইউরোপজুড়ে নার্সারীর চারা সরবরাহের জন্য বিখ্যাত।
পিস্তোইয়া ২০১৩ সালে সাামাজিক ব্যবসা নগরীতে পরিণত হয় এবং সামাজিক ব্যবসা নগরী হিসেবে এর কর্মসূচিকে এগিয়ে নেবার জন্য নগরীর বৃহত্তম দু’টি ফাউন্ডেশন ‘সামাজিক ব্যবসা ল্যাব পিস্তোইয়া’ নামে একটি বিশেষ সংগঠন গড়ে তুলেছে।
অনুষ্ঠানের পর প্রফেসর ইউনূস দু’টি সামাজিক ব্যবসা পরিদর্শন করেন একটি নগর ব্যাপী সামাজিক ব্যবসা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ২০০ উচ্চ-বিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি সমাবেশে বক্তৃতা দেন।










