পাকিস্তান ক্রিকেটের সার্বিক পরিবর্তনে চাই সবার আগে নিজেদের পরিবর্তন! সদ্য পদত্যাগী পাক কোচ এ দাবি করেছেন। পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রশাসনে নির্দেশনার অভাব দেখেন তিনি। বোর্ড এখন দু’জন কর্তা-ব্যক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন: বোর্ডে এখন দু’জন মাথা; একজন বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান। অন্যজন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি। তারা ক্রিকেটকে ভিন্ন দুই দিকে চালাতে চান!
এর আগে, দুই বছর পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ ছিলেন ওয়াকার। দলের খুব বেশি কিছু বদলাতে পারেননি; পরিস্থিতি যা তাতে দায়িত্বে থাকলে কিছু বদলাতে পারতেন বলেও মনে করেন না এই সাবেক ফাস্ট বোলার।
এশিয়া কাপ ও টি২০ বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর কোচের পদ থেকে পদত্যাগের আগে বোর্ডের কাছে একটি রিপোর্ট দিয়েছিলেন ওয়াকার। সেটিও ফাঁস হয়ে গেছে। সেখানে অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির নেতৃত্বগুনের অভাব ও খেলোয়াড়দের শৃংঙ্খলার অভাবকে দায়ী করেছেন।
তবে এবার একটি সাক্ষাৎকারে ওয়াকার পিসিবির মাথা ধরেই টান দিলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা পরিবারে দুই মাথা থাকা। তাতে কোনো কাজ হয় না। শুধু কোচ না, সব মিলিয়ে ক্রিকেট ভুগছে পিসিবির মধ্যে দুই মাথা থাকায়, দুটি ভিন্ন নির্দেশনা থাকায়। এটা ঠিক করা খুব দরকার।’
ক্রিকেট দলের জন্য বোর্ড, বোর্ডের জন্য ক্রিকেট দল না।
এই ব্যাপারটি প্রশাসকদের বুঝতে হবে বলে জোর দিয়েছেন ওয়াকার, ‘আগেও বলেছি ক্রিকেট বোর্ডের উচিৎ দলের কাছে আসা, কোচিং স্টাফদের কাছে আসা। তারাই উন্নতির জন্য এগিয়ে আসবে। কারণ তারা ক্রিকেট দলের জন্য, খেলার জন্য। ক্রিকেট দল তাদের জন্য না। এখানে আমাদের সংস্কৃতিতে তাদের কাছেই ক্রিকেটারদের ধর্ণা দিতে হয়। এটা অন্যরকম হওয়ার কথা। এটা দ্রুত বদলানো দরকার।’
এই সমস্যা থাকার পরও দুই বছর দায়িত্বে থাকলেন কেনো এই প্রশ্নে ওয়াকার বলেছেন, ‘আমি যা করতে চাইতাম তা করতে পারতাম না। আমি তরুণ খেলোয়াড়দের সহায়তা করতে চাইতাম। দুঃখজনক হলো কিছু ব্যাপার ছিল যা আমাকে তা করতে দিত না। অনেকে জানতে চায় আরো আগে কেনো সরে যাইনি। আমি ভেবেছিলাম সিস্টেমের মধ্যে থেকে তা পরিবর্তন করা সম্ভব। আমি সব ঠিক করতে চেয়েছি। কাজ হয়নি।’
অধিনায়ক আফ্রিদি ছিলেন সব সমস্যার মূলে। ওয়াকারের ভাষায়, “ওর টেম্পারামেন্টে সমস্যা। কোনো কিছু সহজে নিতে পারে না, রং না চড়িয়ে কিছু করতে পারে না। আমার রিপোর্টে তা লিখেছি। এই রিপোর্ট মিডিয়ার জন্য ছিল না। ক্রিকেট বোর্ডের জন্য ছিল। কিন্তু ওটা ফাঁস হওয়ায় আফ্রিদির সাথে আমার সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে।’







