পিএইচডি (ডক্টর অফ ফিলোসফি) অর্জনের আগেই নিজের নামের আগে ডক্টর’ উপাধি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কোচিংয়ে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে ড. মাঈন উদ্দিন হিসেবে। তবে বিষয়টি ভুলক্রমে হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।
এক অনুষ্ঠানে ভুল করে ব্যানারে তার নামের আগে ডক্টর’ উপাধি লেখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, মাঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ভার ওই শিক্ষককেই নিতে হবে।
মাঈন উদ্দিন ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও ২০০১ সালে মাস্টার্স করেন। পরে তিনি এমফিল করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে।
চ্যানেল আই অনলাইনের অনুসন্ধানে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন ২০১৫ সালে এস্তনিয়ার তালিন ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করতে যান। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরের শিক্ষা ছুটি নিয়ে এস্তনিয়া যান তিনি। চার বছরের মধ্যে তার পিএইচডি শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তিনি তা শেষ করতে পারেননি। এরপর এক বছর ছুটি বাড়িয়ে এস্তনিয়ায় থাকেন। কিন্তু পাঁচ বছরেও তার পিএইচডি শেষ হয়নি। ২০১৯ সালে তিনি দেশে ফেরত আসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এখন পর্যন্ত তিনি তার পিএইচডি শেষ করেননি।

কিন্তু, ব্যক্তিগতভাবে তিনি সব জায়গাতেই নিজেকে ডক্টর হিসেবে পরিচয় দেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। প্রমাণ হিসেবে তারা একটি অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেছেন।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিজের এলাকা কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে শহীদুল আলম পাটোয়ারী গণপাঠাগার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের ব্যানারে তার নামের আগে ড. মাঈন উদ্দিন ব্যবহার করা হয়।
পিএইচডি শেষ করতে না পারলেও এখন অধ্যাপক হওয়ার চেষ্টায় আছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি একটি বিসিএস কোচিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত।
পিএইচডি শেষ না করেও ডক্টর’ উপাধি ব্যবহার করার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মাঈন উদ্দিন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: এটা আসলে ভুল ছিল, বিভ্রান্তি হয়েছে। আমি এখনো পিএইচডির শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানের পরে আয়োজকরা আমার কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আসলে আমি এখন আইনী ব্যবস্থা নেব। যদি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানতে চায় তাহলে আমি কাগজপত্র উপস্থাপন করব।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। ওই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন, দায়ভার তাকে নিতে হবে।







