তুরিনে পৌঁছতে আল্পস পর্বত পাড়ি দিতে হবে মোনাকোকে। শুধু আল্পসই নয়, তুরিনে পৌঁছে যে আরেকটি পাহাড় টপকাতে হবে ফ্যালকাওদের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠতে হলে দ্বিতীয় লেগে জুভেন্টাসের ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়তে হবে ফরাসি ক্লাবকে। পূর্ব রেকর্ড আর পরিসংখ্যান কোনটাই পক্ষে নেই তবু পাহাড় ডিঙিয়ে ‘তুরিনের ওল্ড লেডি’দের বিপক্ষে নতুন ইতিহাসের খোঁজে মোনাকো।
গঞ্জালো হিগুয়েনের গোলে নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে ২-০তে হেরেছিল মোনাকো। তাই কার্ডিফের টিকিট পেতে দ্বিতীয় লেগে কমপক্ষে ৩ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে তাদের।
কিন্তু জুভদের ডিফেন্স, ঘরের মাঠে তাদের পরিসংখ্যান এবং ইতালিয়ান ক্লাবের বিপক্ষে ফরাসি ক্লাবের ইতিহাস মোনাকোর জন্য আল্পস পর্বতের চেয়ে কোনঅংশেই কম উঁচু নয়।
প্রথম লেগে পিছিয়ে থাকার পর ইতালিয়ান ক্লাবের বিপক্ষে নকআউটে মাত্র দুটি দলই এ পর্যন্ত জিততে পেরেছে। ১৯৯৬ সালে প্যানাথিনাইকোসের বিপক্ষে জিতেছিল নেদারল্যান্ডসের ক্লাব আয়াক্স আমস্টারডাম। আর ২০১১ সালে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল জার্মান ‘কাইকার খ্যাত’ বায়ার্ন মিউনিখ। দুটি দলই প্রথম লেগে পিছিয়ে ছিল মাত্র এক গোলে।
মোনাকো সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছিল ২০০৪ সালে। সেখানে হোসে মরিনহোর অধীনে থাকা পর্তুগীজ ক্লাব পোর্তোর কাছে হেরে যায় তারা।
এদিন জুভেন্টাসের আরও একটি দেয়াল ভাঙতে হবে মোনাকোর। ইউরোপিয়ান কোন টুর্নামেন্টে গত চার বছরে ঘরের মাঠে অপরাজিত বুফনরা। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ছয় ম্যাচেও হারের মুখ দেখেনি তারা।
জুভেন্টাস ম্যাচের আগে ইতালিতে মোনাকোর ইতিহাস খুবই নাজুক। সাতটি ম্যাচ খেলে একটিতেও জিততে পারেনি ফরাসি ক্লাবটি। শুধু মোনাকো নয়, ইতালিতে ভালো রেকর্ড নেই ফ্রান্সের অন্য ক্লাবগুলোরও। নকআউট পর্বে গত ১১টি ম্যাচে ফরাসিদের বিপক্ষে জয় পেয়েছে ইতালিয়ানরা। যার মধ্যে দুটি ম্যাচে মোনাকোও ছিল।
তবে আগের ইতিহাস যাই হোক, নিজ নিজ লিগে মোনাকো-জুভেন্টাস উভয়ই শীর্ষে। জুভরা তো ইতালিয়ান কাপের ফাইনালেও উঠে আছে। সেদিক থেকে ট্রেবল জয়ের হাতছানি হিগুয়েন-দিবালারদের সামনে।
সব হিসেবকে পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাসের খোঁজে রয়েছে মোনাকো। লিগ ওয়ানের সবশেষ ম্যাচে দলের ৩-০ গোলে জয়ের পর কোচ লিওনাদ্রো জারদিম বলেছেন, খেলার প্রথমদিকে একটি গোলই সব কিছুর চেহারা পরিবর্তন করে দিতে পারে।
আত্মবিশ্বাসী জারদিমের ভাষায়, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। ভাল পারফর্ম করে নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। যদি আমরা খেলার শুরুতে স্কোর করতে পারি, হয়তো সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে।’
জারদিমকে আশা জোগাচ্ছে আসলে এই মৌসুমে মোনাকো’র গোল রেকর্ড। ৫৫ ম্যাচে ১৩৯টি গোল করেছে তার ফরোয়ার্ডরা। এর মধ্যে ১৮ বছরের তরুণ তুর্কি কাইলিয়ান এমবাপে সর্বশেষ ২০ ম্যাচে করেছেন ১৮ গোল। কলম্বিয়ান তারকা রাদামেল ফ্যালকাওয়ের চেয়েও যাকে বিপজ্জনক ফরোয়ার্ড বলা হচ্ছে।
লিগের শেষ ম্যাচে মোনাকো জয় পেলেও ড্র করেছে জুভেন্টাস। আর্জেন্টাইন তারকা পাওলো দিবালার গোলে ঘরের মাঠে তোরিনোর সঙ্গে ড্র করেছে জুভরা। এর ফলে টানা ৩৩ ম্যাচে জয়ের ধারায় ছেদ পরে তাদের। তবে এটা বড় করে না দেখে গতির সামান্য টান হিসেবে দেখছেন কোচ মাস্সিমিলিয়ানো অ্যাল্লেগ্রি, ‘মৌসুমের শেষে এসে এরকম একটি ঘটনা স্বাভাবিক।’
মোনাকোর বিপক্ষে দল জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না হুঁশিয়ারি দিয়ে জুভ কোচ বলেন, ‘মোনাকো অনেকগুলো প্রতিভায় ঠাসা একটি দল। আমরা এখনো পুরোপুরিভাবে ফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি। তাই দ্বিতীয় লেগে আমাদের জিততেই হবে।’







