প্রতারক চক্রের হাতে দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের জিম্মি হয়ে পড়ার অভিযোগ পুরনো। পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের জিম্মি করে টাকা আদায় করা, টাকা না দিলে হয়রানির শিকার হওয়াসহ নানা ধরণের অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। নতুন করে এসব অভিযোগ এসেছে নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিরুদ্ধে।
চ্যানেল আইয়ের খবরে জানা যায়: ‘নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। অসাধু অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতেও জিম্মি হয়ে পড়েছেন পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। অতিরিক্ত টাকা আর দালাল ছাড়া নির্দিষ্ট সময় মিলছে না পাসপোর্ট।
নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, দালাল ছাড়া আবেদন জমা দিতে গেলে বারবার ফেরত পাঠানো হয়। পাসপোর্ট বইয়ের সংকট আর ছাপা মেশিন নষ্টের অজুহাত দেখান কর্মকর্তারা। ফলে পবিত্র হজ্ব পালন, জরুরী চিকিৎসা ও প্রবাস যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অনেকের। এ সুযোগে পাসপোর্ট অফিসের আশপাশের দোকানগুলোতে দালালরা খুলে বসেছে সেবা সেন্টার। সত্যায়ন, পুলিশ ভেরিফিকেশন সব সেবা মেলে সেখানে।’
২০১৫ সালে পাসপোর্ট সেবাকে শীর্ষ দুনীর্তিগ্রস্ত খাত উল্লেখ করে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল টিআইবি। রিপোর্টে বলা হয়েছিল, এ খাতে শতকরা ৭৭ ভাগ মানুষ দুর্নীতির শিকার। ২০১৭ সালে টিআইবির প্রকাশিত রিপোর্টেও প্রায় একই তথ্য এসেছিল। তখন পাসপোর্ট তদন্তের নামে পুলিশের ঘুষ দুর্নীতি ও হয়রানিকে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, কেবল পুলিশী হয়রানির শিকার হচ্ছে শতকরা ৭৬ জন সেবা প্রত্যাশী। এর উত্তোরণে পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ তদন্ত প্রথা বাতিলের দাবিও জানিয়েছিল টিআইবি।
এছাড়া কয়েকদিন আগে হেলেন সিং সেরেস্তা নামের এক নেপালি নাগরিক বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। তিনি নেপালি নাগরিক হয়েও কীভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাসপোর্ট অধিদপ্তর তা তদন্ত করছে বলেও সেই খবরে জানা যায়। এছাড়া মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে রোহিঙ্গাদের বিদেশে যাওয়ার খবরও শোনা যায়!
এসব অনিয়ম রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা পাসপোর্ট অধিদপ্তর যে একেবারেই নিষ্ক্রিয়, তা বলা যাবে না। বিভিন্ন সময় পাসপোর্ট অফিস থেকে দালালদের গ্রেপ্তার হওয়ার খবরও গণমাধ্যমে আসে। তবে এসব বিষয়ে অ্যাকশন প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। দালালদের পাশাপাশি যেসব অসাধু কর্মকর্তা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। বিদেশে লাল-সবুজ পতাকার সম্মানের স্বার্থে পাসপোর্ট অফিসের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।








