উত্তরাঞ্চলে নদনদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসী মানুষের। দুর্গত এলাকায় মানুষের হাতে কাজ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টের জীবন যাপন করছেন তারা। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত নানা রোগ।
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্গম চরাঞ্চলসহ চিলমারী উপজেলার থানাহাট ও রমনা ইউনিয়নের প্রায় ২০ টি গ্রামে বাঁধ ভেঙ্গে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এখনো ঘরে ফিরতে পারেনি এসব এলাকার মানুষ। আশ্রয় কেন্দ্রসহ বাঁধ ও পাকা সড়কে তাবু টাঙ্গিয়ে গবাদি পশু নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। অন্যান্য এলাকায় পানি নেমে গেলেও কাজ না থাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রাণ যেটুকু মিলছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
গাইবান্ধার সব কটি নদ-নদীর পানি নেমে যাওয়ায় ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে দুর্গতরা। তবে বেশিরভাগ ঘরবাড়ি পানির তোড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ায় সেগুলো মেরামত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কর্মহীন মানুষের হাতে টাকা-পয়সা না থাকায় পুনর্বাসন নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা।
সুনামগঞ্জে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যান চলাচল।
উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বন্যার প্রভাবে গত কয়েক দিন ধরে ভোলায় অস্বাভাবিক জোয়ার দেখা দিয়েছে। পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও দিনের অধিকাংশ সময় ডুবে থাকছে জেলার ৭ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের ঘর-বাড়ি এবং ফসলি জমি। রোয়ানুর আঘাতে ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলো গত ৩ মাসেও সংস্কার না হওয়ায় অবাধে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।
ত্রাণের পাশাপাশি ভোলার প্লাবিত এলাকার মানুষের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে বিশুদ্ধ পানি আর প্রয়োজনীয় ওষুধ।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রাণ:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।
কেন্দ্রীয় মানবাধিকার সম্পাদক এডভোকেট মানিক ঘোষের সভাপতিত্বে ত্রাণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সুন্দরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হাদিউল ইসলাম। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা তারাপুর ও দহবন্দ ইউনিয়নের দুর্গত এক হাজার পরিবারের মধ্যে ওই ত্রাণ বিতরণ করা হয়।









