স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় সিংহাসন ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন জাপানের সম্রাট আকিহিতো। সোমবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত জাতির উদ্দেশে দেয়া ১০ মিনিটের দুর্লভ এক ভাষণে আকিহিতো জানান, যতোই দিন যাচ্ছে সম্রাটের দায়িত্ব পালন ততোই কঠিন হয়ে পড়ছে।
আকিহিতো বলেন, আশা করছি কোনো ধরনের ব্যাঘাত ছাড়াই রাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে সম্রাটের দায়িত্ব পালিত হবে।
তিনি বলেছেন, যখন একজন সম্রাট তার বয়স কিংবা অসুস্থতার জন্য সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না, তখন একটি রাজপ্রতিনিধিত্ব তৈরি করা যেতে পারে। এমতাবস্থায় সম্রাট মৃত্যু পর্যন্ত তার পদে থাকতে পারবেন।
১৯৮৯ সালে বাবা হিরোহিতোর মৃত্যুর পর জাপানের সম্রাট হন আকিহিতো। ২৭ বছর পর এখন তার বয়স ৮২ বছর। ভুগছেন ক্যান্সার ও হৃদরোগসহ নানা অসুখে।
বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে অনেক বেশি প্রচারবিমুখ জাপানের রাজতন্ত্র। ২৭ বছরের শাসনামলে টেলিভিশনে আর একবারই মাত্র জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন সম্রাট আকিহিতো সেটা হল ২০১১ তে ফুকুশিমা ট্র্যাজেডির পর।
সাম্প্রতিক সময়ে ৫৬ বছর বয়সী ছেলে নারুহিতোকে বেশ কিছু দায়িত্ব অর্পণ করেছেন সম্রাট আকিহিতো। শেষ পর্যন্ত আকিহিতো সরে দাঁড়ালে নারুহিতোরই সম্রাট হওয়া কথা। তবে, সিংহাসন ছাড়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাপানের আইন, যেখানে পরিস্কার বলা আছে সম্রাটের দায়িত্ব আমৃত্যু।
উনবিংশ শতাব্দীর আগে জাপানের সম্রাটদের দায়িত্ব ছেড়ে সরে দাঁড়ানোর প্রচলন থাকলেও, বর্তমানে আইন সংশোধন ছাড়া এটি সম্ভব নয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন, আইন সংশোধনের বিষয়টি তাদের বিবেচনায় আছে।







