‘সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা কেউ ভুল নিউজ করবেন না। আমি যা বলার এখানেই বলে দিলাম। পারলে আমার সংসারটাকে রক্ষা করতে সাহায্য করুন। আমি এখনো জোর গলায় বলতে চাই আমার সাথে আর আমার বাচ্চাদের সাথে অন্যায় করা হচ্ছে। এই জাতি যেন অন্যায়কে সমর্থন না করে। আমি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চাই কারণ তিনিও একজন নারী, তিনিও একজন মা। তিনিও নিশ্চয় চাইবেন না একজন মা ও তার বাচ্চাদের সাথে অন্যায় হোক। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন প্লিজ।’
-কথাগুলো বলছিলেন এক সময়ের ছোট পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী।
যাপিত জীবনে বহুদিন ধরেই স্বামী মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে ‘রং নাম্বার’ খ্যাত এই অভিনেত্রীর। সম্প্রতি ডিভোর্সের নোটিশ পেয়ে যেনো কিছুটা হতাশ শ্রাবন্তী। দাম্পত্য কলহ হবেই, তাই বলে ডিভোর্স! তাও দুই সন্তানের কথা না ভেবেই? এমন প্রশ্নই যেনো এই অভিনেত্রীর চোখে মুখে। তাইতো শেষ চেষ্টা করছেন যেনো আলমের সঙ্গে সংসারটা টিকে থাকে তার।
রবিবার রাতে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সবকিছু তুলে ধরেন শ্রাবন্তী। ডিভোর্সের পথকে অন্যায় জ্ঞান করে এই অভিনেত্রী বলেন, সত্য-মিথ্যা অনেক কথা আসবে, কিন্তু একজন মা আর একজন মানুষ হিসেবে আমার একটাই চাওয়া আমার সাথে আমার সন্তানদের সাথে কোনো অন্যায় না হোক। আমার বাচ্চারা ব্রোকেন ফ্যামিলিতে বড় না হোক, এর রেজাল্ট কখনোই ভালো হয় না। ভুল আমারও আছে, খোরশেদ আলমেরও আছে, তাই বলে ডিভোর্স করে আলম বাচ্চাদের সাথে আমার সাথে এমন অন্যায় করতে পারে না।
এর আগেই স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগও তুলে ছিলেন শ্রাবন্তী। সেই প্রসঙ্গেও ইঙ্গিত দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে লেখেন, একজন শিক্ষক হয়ে এমন অন্যায় যেন আলম আমাদের সাথে না করে। সেই মহিলা নিজেও সংসার মনোযোগ দিয়ে করুক আমাকে উল্টা হুমকি না দিয়ে। উপরে আল্লাহ আছেন। সবকিছু সুন্দরভাবে হোক। আমার বাচ্চাদের সাথে অন্যায় না হোক এটাই আমার চাওয়া। আলম সুন্দরভাবে অন্যায় না করে অনেস্টলি সবকিছু থেকে সরে আসুক। নিজের ফ্যামিলি রক্ষা করুক একজন শিক্ষক হয়ে, এটা চাই।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন শ্রাবন্তী। সেখানে থাকতেই বগুড়ায় তার বাবার বাসায় ডিভোর্সের নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর ২৫ জুন দেশে ফেরেন। এদিকে ২৬ জুন রাজধানীর খিলগাঁও থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা করেছেন শ্রাবন্তী।
২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রাবন্তীর সঙ্গে বিয়ে হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের। তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে রাবিয়াহ আলমের বয়স ৭ আর ছোট মেয়ে আরিশা আলমের সাড়ে ৩ বছর।







