পাটজাত পণ্য মেলায় ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। পাঁচদিনে মেলায় বিভিন্ন ধরণের পাট পণ্য বিক্রি হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকার। উদ্যোক্তাদের মতে, মেলায় প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তির পরিমাণটা অনেক বেশি। তবে পাটের বৈচিত্র্যময় পণ্য সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে জেলায় জেলায় এ ধরণের মেলার আয়োজন করা দরকার বলে মনে করেন তারা।
সোমবার রাজধানীর খামার বাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে পাটজাত পণ্যের মেলা শেষ হয়েছে। গত ৯ মার্চ শুরু হয় তিনদিনের মেলা। পরে তা দু’দিন বাড়ানো হয়।
মেলায় মোট ৯৪টি স্টল অংশ নেয়। স্টলগুলোতে পাটের তৈরি জুতা, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, থ্রি-পিস, চুড়ি, কানের দুল, জানালার পর্দা, ম্যাট, সোফাসেট, ফুলের টব, পাপোশসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।
শেষদিনেও মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলায় প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি অনেক বেশি বলেন মনে করেন জাগরণ হস্তশিল্পের পরিচালক সাইফুদ্দিন সবুজ। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘মেলায় এক লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। মেলায় আসছি শুধু পণ্য প্রদর্শনের জন্য, বিক্রির জন্য নয়। তবু এতো বিক্রি হবে ধারণা ছিল না’।
তিনি বলেন, ‘স্টকে মালামাল যা ছিল, শেষ হয়ে গেছে। ক্রেতারা এসে ফিরে যাচ্ছে। পণ্য দিতে পারছি না। অনেকে অর্ডার দিয়ে গেছে। পরে তাদের সরবরাহ করা হবে’।
‘ক্রেতারা শুধু ব্যবহারের জন্য মেলায় পণ্য কিনতে আসেননি। বায়ারদের কাছে বাংলাদেশের পাট পণ্যের সমারোহ পৌঁছে দিতে স্যাম্পল হিসেবেও বিভিন্ন ধরণের পাট পণ্য সংগ্রহ করেছেন যা আগামীতে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়াবে,’ বলে জানালেন মেলায় অংশ নেওয়া ন্যাচারাল হ্যান্ডিক্রাফটসের মালিক সাজ্জাদ সৌরভ।
তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘মেলায় বেশ সাড়া পাচ্ছি। অনেক লোকাল বায়ার আসছে। বায়িং হাউজের অনেক ক্রেতা আসছে। তারা বিদেশি বায়ারদের স্যাম্পল হিসেবে দেখানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের পাটের পণ্য নিয়ে যাচ্ছে।’
পাঁচ দিনে তার স্টলে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাট পণ্যের আধূনিকতা তৃণমূলে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য জেলা পর্যায়ে মেলার আয়োজন করা দরকার বলে মনে করেন মনিজুট গুডস অ্যান্ড হ্যান্ডিক্রাফসটের অপারেশন পরিচালক মহি উদ্দিন। তিনি চ্যানেল আইন অনলাইনকে বলেন, ‘বাণিজ্য মেলায় এক মাসে আমাদের স্টলের বিক্রি হয় তিন থেকে চার লাখ টাকা। আর এ মেলায় মাত্র পাঁচ দিনেই বিক্রি হয়েছে দুই লাখ টাকার বেশি’।
তিনি বলেন, ‘মেলায় অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। কারণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বিক্রি করতে পেরেছি। তবে জেলা পর্যায়ে মেলার আয়োজন করা হলে, মানুষ পাটের পণ্য সম্পর্কে জানবে ও চিনবে। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে খুব দ্রুত পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে উদ্যোক্তাও।’
পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনীর আয়োজন করে সন্তুষ্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠান পাটজাত পণ্যের বহুমুখীকরণ কেন্দ্র জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)। প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প পরিধারণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের পরিচালক মো. মঈনুল হক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মেলার সময় দুই বাড়ানো হয়, তবু ক্রেতাদের চাপ কমেনি। মেলায় প্রতিদিনের হিসাব রেখেছি আমরা।
‘পাঁচ দিনে প্রায় তিন কোটি টাকার পাট পণ্য বিক্রি হয়েছে। এছাড়া কয়েক কোটি টাকার অর্ডার পেয়েছেন উদ্যোক্তারা। মেলায় বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। যা আমাদের ধারণাকে ছাড়িয়ে গেছে।’







