ইতালিতে পাড়ি জমানোর পর একবার মাদ্রিদে এসেছিলেন। সেবার কর ফাঁকি মামলার রায় শোনাই ছিল উদ্দেশ্য। মাঠের খেলা নিয়ে প্রথমবার মাদ্রিদে ফিরে ভিন্ন রকম অভ্যর্থনাই পেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। যাকে অভ্যর্থনা না বলে টিটকারিই বলা শ্রেয়!
জুভেন্টাসের জার্সি গায়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোয় খেলতে এসেছিলেন সিআর সেভেন। ২০১৪ ও ২০১৬ সালের ফাইনালের পর ২০১৭ সালের সেমিতে রিয়ালের কাছে হেরে বিদায় নেয়া অ্যাটলেটিকোর দর্শকরা রোনালদোর এ আগমনকে সহজভাবে নেয়নি। কারণ ওই তিন মৌসুমেই দলটিকে বিদায় করে দেয়ার প্রধান কাণ্ডারি ছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
রোনালদোকে পেয়ে বারবার উত্তপ্ত বাক্য ছুঁড়েছে অ্যাটলেটিকোর সমর্থকরা। কিছুদিন আগে মাদ্রিদের আদালত থেকে যে দুই বছরের কারাদণ্ড ও বিশাল অঙ্কের জরিমানা গুনেছেন সিআর সেভেন, সমর্থকদের কথাতে জড়িয়ে থাকল সেটাই। ‘রোনালদো কেবল ট্যাক্সকেই বোকা বানাতে পারে’, ‘ট্যাক্সওয়ালার কাছে রোনালদো ঋণী’ বেশিরভাগ সময়ে এরকম কথাই উড়ে এসেছে সিআর সেভেনকে লক্ষ্য করে।
জবাব দিতে দেরিও করেননি রোনালদো। পাঁচ আঙুল তুলে বারবার দেখিয়েছেন, ‘আমি পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছি, অ্যাটলেটিকো একবারও না!’
দুই পক্ষের এই যুদ্ধে শেষপর্যন্ত অবশ্য অ্যাটলেটিকো সমর্থকদের জয় হয়েছে। রোনালদোকে বোতলবন্দী করে নিজেদের মাঠে ২-০ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে অ্যাটলেটিকো। দুই ডিফেন্ডার হোসে জিমিনেজ (৭৮ মিনিট) ও ডিয়েগো গোডিনের (৮৩ মিনিট) গোলে ১২ মার্চ জুভেন্টাসের মাঠে ফিরতি লেগে ফুরফুরে মেজাজে খেলতে যাবে ডিয়েগো সিমিওনের দল।
উল্টো অবস্থা জুভ শিবিরে। কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে দ্বিতীয় লেগে জিততে হবে কমপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে। আর অ্যাটলেটিকো গোল পেলে ব্যবধানটা আরও বাড়বে। পাঁচ আঙুল দেখিয়ে স্বাগতিক সমর্থক তাতানো রোনালদোকেও দেখাতে হবে বড় রকমের জাদু। ১১০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে রোনালদোকে এনেছে জুভেন্টাস, লক্ষ্য ইউরোপ সেরার মুকুট, সেটা জিততে জাদু দেখানো ছাড়া বিকল্প নেই সিআর সেভেনের সামনে!







