ছোট ছোট হাতির বাচ্চাগুলো মাথা ঝুঁকিয়ে ঝুঁকিয়ে নাচছে গানের তালে তালে। এমন দৃশ্য হরহামেশা দেখা মেলে থাইল্যান্ডের চিড়িয়াখানাগুলোতে।
কিন্তু এর মাঝে রয়েছে এক ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা। স্বেচ্ছায় নয় বরং নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে এমনটি করা হয় বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী দল। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে বিষয়টি গুরুতর অপরাধ।
থাইল্যান্ডে ফুটফুটে হাতির বাচ্চাকে বাধ্য করানো হয় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সাথে নাচতে। এক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে থাইল্যান্ডের চিড়িয়াখানায় এ ধরনের অনেক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেয়া হয় হাতিকে।
এক ফুটেজে দেখা যায়, পর্যটকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য এই ধরনের হাতির বাচ্চাকে ট্রেনিং দিয়ে শুঁড় উঁচুতে তোলা, এবং বিভিন্ন ধরণের বাদ্যযন্ত্র বাজাতে বাধ্য করা হয়।
থাইল্যান্ডের ফুকেট চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটা বাচ্চা হাতিকে প্রতিদিন তিনবার ‘অ্যা রিয়েল লাইফ ড্রাম্বো’তে পারফরম্যান্স করতে হয়। এটা এই বয়সের তুলনায় খুবই ঝুঁকপূর্ণ।
‘র্যাপ মিউজিক’ যখন চলতে থাকে তখন দুটি প্রাপ্ত বয়স্ক হাতি পাশে থেকে নিজেদের মাথা উঠানামা করে, একজন বাদ্যযন্ত্র বাজায় এবং একজন এক পা তুলে রাখে। ট্রেইনার যখন বিভিন্ন সংকেত দেয় তখন হাতি তার বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে থাকে।
এই দৃশ্য দেখে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যাওয়া পর্যটক খুশি হয়ে হাতির শুঁড়ে টাকা দিয়ে যায়।
অনুসন্ধানীরা সন্দেহ করছেন, হাতিরা যদি মিউজিকের তালে তালে এমন অঙ্গভঙ্গি না করতে পারে তাহলে তাদের আঘাত করা হয়।
প্রাণীদের নিরাপদ অভয় আশ্রয় নিয়ে গড়ে উঠা বিভিন্ন দলের অনুসন্ধানে বলা হয়, এই ধরণের ভয়ানক যন্ত্রনাদায়ক ট্রেনিং প্রাণীদের জন্য খুবই হাতাশাজনক এবং বিপদজনক।
এমি জনাস নামক সংস্থার এক কর্মী বলেন, দর্শনার্থীরা এই ধরণের খেলা পছন্দ করছে এবং টাকাও দিচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত এই কাজের চাহিদা বাড়ছে। কখনও দেখা যায় এ ধরণের হাতির সাথে অনেক পর্যটক হেসে ছবি তুলছে, আবার দেখা যায় কোনো হাতি চোখ বন্ধ করে থাকলে তাদের শুঁড়ে আঘাত করে চোখ খুলতে বাধ্য করা হয়। এ ধরণের অমানবিক নির্যাতন প্রাণীদের জন্য হুমকি স্বরূপ।







