ভারতের শিশুরা যাতে অবাধে পর্নোগ্রাফিক সাইটে যেতে না পেরে সে কারণে ভারতের সরকার ৮৫০ টির বেশি পর্নো সাইট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টিকে ব্যক্তিগত অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে মনে করে ক্ষুব্ধ হয়েছেন কয়েকজন ভারতীয় তারকারা।
তবে টেলিকম মন্ত্রণালয় বলছে, ওই পর্নো সাইটগুলো ভারতে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। প্রাপ্ত বয়স্করা এই সাইটগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রক্সি বসিয়ে ওইসব সাইট দেখতে পারবেন।
ওই সিদ্ধান্তকে টেলিকম মন্ত্রণালয় একভাবে দেখলেও ভারতের বেশ কয়েকজন লেখক, গায়ক, পরিচালক এবং অভিনয় শিল্পীরা বিষয়টিকে ব্যক্তিগত অধিকার খর্ব করা হচ্ছে উল্লেখ করে সামাজিক গণমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক রাম গোপাল বার্মা পর্নো সাইট ব্লক কারার প্রতিবাদে টুইটারে টুইট করে বলেছেন,‘ইচ্ছুক প্রাপ্তবয়স্কদের একটা নির্দোষ আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা আর তালেবান বা আইএস যেভাবে মানুষের স্বাধীনতা হরণ করে দুটোই একই জিনিস’।
ভারেতর আলোচিত বেস্টসেলার লেখক চেতন ভগত টুইট করে বলেছেন, ‘পর্নো নিষিদ্ধ করবেন না, পারলে ধর্ষণ নিষিদ্ধ করুন। যৌনতা নিষিদ্ধ করা কোনো সমাধান নয়’।
লেখক ও নির্মাতা মিলাপ জাভেরি ক্ষুব্ধ হয়ে টুইট করে বলেন, ‘হাহ! পর্নো নিষিদ্ধ, শুনে অবাক হলাম’।
‘ধুম’ খ্যাত অভিনেতা উদয় চোপড়া টুইটে বলেছেন, ‘ভারত পর্নো নিষিদ্ধ করলো, ভাবছি ধর্ষণ কমবে নাকি বাড়বে’।
সঙ্গীত পরিচালক বিশাল টুইটে বলেন, ‘আমি অবাক হবো না’। সবচে মজার ব্যাপার হচ্ছে, যেই দল পর্নো নিষিদ্ধ করে সেই দলই কিনা সংসদে বসে পর্নো দেখে ধরা পড়ে’।
রাজনীতিকরা এই ধরনের বির্তকে থেকে দূরে থাকলেও কংগ্রেস নেতা মিলিন্দ তার টুইটারে লিখেছেন, ‘পর্নো ভালোবাসি কিনা তা এখন প্রশ্ন নয়। সরকার এখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর কি ফোন আর টিভিও নিষিদ্ধ করবে সরকার’।
ভারতের প্রতিদিন ৫০ লাখের বেশি মানুষ ৮৫০ টি পর্নো সাইটগুলোতে ঢুকে থাকে। বিভিন্ন পর্নো সাইট বিশেষ করে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি বা শিশু যৌনতা থাকে সেসব সাইটগুলো ব্লক করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন টেলিকম মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে তাদের নেটওয়ার্ক থেকে ওইসব সাইট বন্ধ করে দিয়েছে।






