বীর প্রতীক তারামন বিবির মৃত্যুতে শোকার্ত গোটা দেশ। আর সেই সময়েই এলো আরো একটি মৃত্যু সংবাদ। হ্যাঁ, স্থপতি, আলোকচিত্রী এবং পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী সিনেমাটোগ্রাফার আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন। শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেল কক্ষে মৃত্যু হয় তার।
দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের প্যারিসে পরিবার সহ বাস করে আসছিলেন পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন। শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আকস্মিত মৃত্যু হয় তার। কিংবদন্তি এই সিনেমাটোগ্রাফারের মৃত্যুর পর ফটোগ্রাফি ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া।
আর এরমধ্যেই শেষ হয়েছে আনোয়ার হোসেনের পোস্ট মর্টেমও। তবে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট না পাওয়ায় এখনো তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। প্রাথমিক অবস্থায় হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এরমধ্যে বড় ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে আনোয়ার হোসেনের মরদেহের পাশে আছেন তার ছোট ভাই আলী হোসেন বাবু।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি জানান, পোস্ট মর্টেম শেষ। এখন তাকে নিয়ে গোসল করিয়ে ফ্রিজ করে রাতে স্কয়ার হাসপাতালে রাখবো। ইতিমধ্যে প্যারিসে ভাবীর(আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী) সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা বাংলাদেশে রওনা দিচ্ছেন। সাথে উনার দুই ছেলেও আসছেন।
দাফন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজনের সাথে কথা বলেছি, তারা আগামী কাল সাড়ে এগারোটায় সব শ্রেণির মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে রাখার কথা বললেন। কিন্তু বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রাতের মধ্যে ফাইনাল হবে। না হলে ভাবী পরশু ফ্রান্স থেকে আসলে দাফনের বিষয়টির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এরআগে চ্যানেল আই অনলাইনকে আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে ফোনিক্স ফটোগ্রাফিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শাখাওয়াত কামাল বলেন, ফোনিক্স ফটোগ্রাফিক সোসাইটির আয়োজনে ‘ইন্টারনেশনাল স্যালন ২০১৮’-এর বিচারক হিসেবে ক’দিন আগেই আনোয়ার হোসেন ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। ২৮ নভেম্বর পান্থপথের একটি হোটেল রুমে উঠে ছিলেন তিনি। ‘ইন্টারনেশনাল স্যালন ২০১৮’-এর বিচার কার্যের আজকেই শেষ দিন ছিলো।
সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে তার খ্যাতি থাকলেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিকমানের একজন আলোকচিত্রীও ছিলেন আনোয়ার হোসেন। বেশকিছু দিন ধরেই তিনি প্যারিসে থাকতেন। সূর্যদীঘল বাড়ী ছাড়াও আনোয়ার হোসেন ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’,‘পুরস্কার’, ‘অন্য জীবন’ এবং ‘লালসালু’র জন্য শ্রেষ্ঠ সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন।








