তার নাম দরুদুজ্জামান বিশ্বাস। ওরফে জামান। তাকে বলা হয় জাল রুপি তৈরির গুরু। মাত্র পনেরো হাজার টাকা দিলেই তার কাছে পাওয়া যেতো এক লাখ ভারতীয় জাল রুপির বান্ডিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বার বার গ্রেপ্তার হয়েও জামিনে বেরিয়ে আসে এই রুপি গুরু। আবার শুরু করে সেই জাল রুপি তৈরি এবং তা বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ।
সেই দরুদুজ্জামান বিশ্বাসকে আবারো গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) দেবদাস ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এরআগে আলাদা অভিযানে জাল টাকা ও রুপি তৈরি চক্রের আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, রাজধানীর শেরেবাংলানগর ও রাজশাহী মহানগরে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় জাল রুপি তৈরি চক্রের গুরু দরুদুজ্জামান বিশ্বাস ওরফে জামান ও তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ডিবি উত্তর বিভাগ।

গ্রেপ্তাকৃতদের কাছ থেকে ১২ লাখ ২৮ হাজার ভারতীয় জাল রুপি, জাল রুপি তৈরির কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার মেশিন, লেমিনেটিং মেশিন, হ্যালোজেন লাইট, স্ক্যানিং করার প্রিন্টার ফ্রেম, সাদা কাগজ, বিভিন্ন ধরনের কার্টিজ ও মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।
অরেক অভিযানে রাজধানীর মগবাজার ও গাজীপুর থেকে জাল টাকা তৈরি চক্রের সদস্য মজিবুর রহমান ও জয়নুল আবেদীনকে গ্রেফতার করে ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।
তাদের কাছ থেকে ২০লাখ জাল টাকা,জাল টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার মেশিন, কি বোর্ড, মাউস, এন্টি কাটার, স্কেল, সাদা কাগজ, কাঠের ডাইস উদ্ধার করা হয়।
দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, দরুদুজ্জামান বিশ্বাস ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশী জাল টাকা এবং ভারতীয় জাল রুপি তৈরি করে। তার চক্রটি এই জাল রুপি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় সরবরাহ করত। তিনি আমাদের মোস্ট ওয়ানটেড তালিকায় ছিলেন। আগে তার নামে ৬টি মামলা রয়েছে।
গত বছরের এপ্রিল মাসে আদাবর থানায় দরুদুজ্জামানসহ তার চক্রের ৮ জন গ্রেফতার হয়। পরে দরুদুজ্জামান জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও এ প্রতারণা শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার মজিবুর ও জয়নুলের রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাল টাকা তৈরির কারখানা রয়েছে। সেখান থেকে জাল টাকা বানিয়ে তারা সাধারণ মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিত।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন: জামিন পাওয়া সকলেরই আইনী অধিকার। এ সকল চক্রের সদস্য জামিনে বের হয়ে এমন কাজে আবারও জড়িয়ে পড়ে।







