পটুয়াখালীতে ব্যাঙ সংরক্ষণে এগিয়ে আসছে সাধারণ মানুষ। জীববৈচিত্র সুরক্ষার অংশ হিসেবে ব্যাঙের প্রজনন ও বিচরণের ক্ষেত্র অনুকূল করতে কাজ করছে তারা। জনসাধারণকে সচেতন করতে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় গবেষকরা।
বর্ষায় যেখানেই একটু পানি জমে সেখানেই দল বেঁধে হাজির হয় সোনা ব্যাঙের দল। ডাক জানিয়ে দেয় বৃষ্টির আগমনী বার্তা। পরিবেশ বান্ধব এ প্রাণীটি রক্ষায় পটুয়াখালীর মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন।
তারা মনে করছেন, পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণে সোনাব্যাঙ রক্ষা ও এর বংশ বিস্তারে সহায়তা প্রয়োজন। এজন্য সখ করে অনেকেই বাড়ীর পুকুরে অবমুক্ত করছেন ব্যাঙ।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কৃষি-বান্ধব উভচর প্রাণী ব্যাঙ সংরক্ষণ করে ফসল রক্ষায় কাজে লাগানোর পাশাপাশি কৃত্রিম চাষের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
পটুয়াখালী কৃষি গবেষণা ইনিষ্টিটিউটের ডিপ্লোমা কৃষিবিদ কে.এম এনামুল হক মিয়া বলেন, বরি মৌসুমে জমিতে গর্ত করে পানি দিয়ে ব্যাঙ চাষ করলে রবি শস্যর পোকা মাকড় খেয়ে ফেলে। আর বাণিজ্যিকভাবে ব্যাঙ চাষ করলে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
প্রাণীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ বলছেন, প্রাপ্তবয়স্ক একটি সোনা ব্যাঙ দৈনিক গড়ে ২ থেকে আড়াই কেজি পোকামাকড় ও মশার লার্ভা খেয়ে থাকে। সোনা ব্যাঙের উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানী নয় বরং মশক ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিধনের মাধ্যমে কীটনাশক ব্যয় সাশ্রয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রেখে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
পটুয়াখালী সরকারি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, পোকা মারার জন্য কিটনাশক ব্যবহার না করে একটি ফেরোমন বোতলে রেখে ব্যবহার করা হয়। আর আমরা যদি ব্যাঙের মাধ্যমে পোকা নিধন করি তাহলে একদিকে যেমন পরিবেশের জন্য উপযোগী হবে তেমনি কৃষি ক্ষেত্রেও উপকারী হবে। এটি বিদেশে রপ্তানী করলে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব হবে।







