বিশ্বের অষ্টম আর বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম পঞ্চাশ উইকেট শিকারের এলিট ক্লাবে নাম লেখানোর সুযোগ ছিল। মোস্তাফিজুর রহমান সেটা ছুঁতে পারতেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৬তম ম্যাচে এসেই। কিন্তু উইকেটের ফিফটি পূর্ণ করতে অপেক্ষা বাড়ল বাঁহাতি পেসারের।
বৃহস্পতিবার শের-ই-বাংলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ যেভাবে ম্যাচটি হারল, সেটি ভুলে যেতে চাইবে সকলেই। শুরুতে ব্যাট করে ৮২ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর লঙ্কানদের একটি উইকেটও তুলে নিতে পারেননি স্বাগতিক বোলাররা। শ্রীলঙ্কা ম্যাচটা জিতে নেয় ১১.৫ ওভারেই, সবকটি উইকেট ধরে রেখে। তাতে ২৭ জানুয়ারির ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হচ্ছে হাথুরুসিংহের দল।
দল ভাল ব্যাটিং করেনি। এরপরও বিশ্বের অষ্টম আর বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম সময়ে পঞ্চাশ উইকেট পাওয়া বোলার হওয়ার ভাল সুযোগই ছিল মোস্তাফিজের। সেটি হয়নি। অধিনায়ক কাটার মাস্টারের হাতে বল তুলে দেন ইনিংসের ১০ম ওভারে। লঙ্কানরা ততক্ষণে ম্যাচটা পকেটেই পুরেছে। সবমিলে ১১টি বল করার সুযোগ পেয়েছেন ফিজ। তাতে ১৪ রান খরচা, উইকেট আসেনি।
এরপরও দেশের হয়ে দ্রুততম পঞ্চাশ উইকেট শিকারের কীর্তি ছোঁয়ার ভাল সুযোগই থাকছে মোস্তাফিজের। বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক পঞ্চাশ উইকেট নিতে সময় নিয়েছিলেন ৩২ ম্যাচ। ফিজের গেল কেবল ২৬তম ম্যাচ।
ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুত পঞ্চাশ উইকেট শিকারের তালিকায় এক নম্বরে আছেন শ্রীলঙ্কার অজন্তা মেন্ডিস। এই অফস্পিনার ফিফটি পূর্ণ করেছিলেন মাত্র ১৯ ম্যাচে। সমান ২৩ ম্যাচ করে লেগেছিল ভারতীয় পেসার অজিত আগারকার ও নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি পেসার মিশেল ম্যাকক্লেনেঘানের।
সেখানে ২৪ ম্যাচ লেগেছে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসার ডেনিস লিলি ও পাকিস্তানের হাসান আলীর। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগস্পিনার শেন ওয়ার্ন ও নিউজিল্যান্ডের পেসার ম্যাট হেনরির লেগেছিল সমান ২৫ ম্যাচ করে।
মোস্তাফিজের ২৬তম ম্যাচে এসে হল না। আরও পাঁচ বোলার আছেন যারা এই সংখ্যক ম্যাচে এসে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ান অফস্পিনার লিন পাসো, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার প্যাটট্রিক পিটারসন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার কার্টলি অ্যামব্রোস, আফগানিস্তানের পেসার হামিদ খান ও লেগস্পিনার রশিদ খান।
মোস্তাফিজের ওয়ানডে অভিষেক ভারতের বিপক্ষে মিরপুরে, ২০১৫ সালের জুনে। আবির্ভাবেই জানান দেন অনেক কীর্তি গড়ার তাড়না আছে তার! শুরুর সিরিজে (তিন ম্যাচ) ১৩ উইকেট নিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। তার মায়াবী কাটারে ২২ গজে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে থাকেন বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানরা। কাঁধের ইনজুরি ও অস্ত্রোপচারের কারণে অনেকটা সময় দলের বাইরে ছিলেন। ফর্ম ফিরে পেতেও লেগে গেছে অনেকটা সময়। ত্রিদেশীয় সিরিজে দারুণ বল করেছেন আগের কয়েকটি ম্যাচে। ধারাবাহিকতা রেখে ফাইনালেই হয়ত ছুঁয়ে ফেলবেন কীর্তি।







