অামাদের শ্লীলতাহীন রাজনীতির অশ্রাব্যতা নিয়ে লিখতে ভাল লাগে না। বাংলাদেশটা দাঁড়িয়ে অাছে একটা ভাষার উপর। ভাষার অান্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের অাতুড়ঁঘর। অথচ, ভাষার দেশেই অশ্রাব্য অার মিথ্যে ভাষ্যে দাড়িয়ে থাকে সব মিথ্যচারী শাসক! রাজনীতি কেবল সেখানে কথা বলতে জানে ক্রোধ অার ক্ষমতার দম্ভের অক্ষরে। দেশ, জনগণের প্রতি অভিভাবকত্বের মমত্বের শব্দে কথা বলা এখনো শিখতে পারেনি অামাদের চলতি স্রোতের রাজনীতি।
বাক্যে বাক্যে উদ্ধত ভঙ্গিমা অার মিথ্যাচারের খেলা এ দেশের বহু রাজনৈতিক চরিত্রগুলোর যেন লজ্জাস্থান নিবারক বস্ত্র। বুধবার ভোররাতে অাচমকাই খুব অাদরের ছোটভাই, প্রিয় সংবাদ পাঠক সাইদুল ইসলামের ফোন। তার অনুরোধ-ভাই, বিচার বিভাগের প্রতি শাসক দলের, সরকারের মন্ত্রীর অনায্যতা, অশ্লীলতা নিয়ে লিখুন। অামি তাকে বলছিলাম, ভাই এ বিষয়টি নিয়ে লিখতে গেলে গ্রাম্য বিচারকটির পৌরাণিক সে গল্পও লিখতে হবে। সাইদুল বলল, তাহলে ভাই এ বিষয়টা না হয় উহ্য করে লিখুন।
উহ্য করে লিখতে গেলে দেখি, মন্ত্রীবাহাদুর সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রতি কী অাঙ্গুল তুলেন। কী করে যে একজন জৈষ্ঠ্য রাজনীতিক, সিনিয়র মন্ত্রী বলতে পারেন, “অাদালতের হাত সংসদ ছোঁয়ার মত লম্বা হয়নি” অামার ভাবতে লজ্জা হয়।
অর্থমন্ত্রী ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন ‘আমরা চাকরি দিই, আমাদের ওপর পোদ্দারি। যতবার কোর্ট বাতিল করবে, আমরা ততবার পাস করব।’ বলিহারী যাই ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের এমত সংসদীয় সার্বভৌম গনতন্ত্র অার বিচার বিভাগের প্রতি এমত শ্রদ্ধা দেখে!
অাচ্ছা, সংসদ-সরকার কী অাইনের উর্ধ্বে?
অামার ভাবনাগুলো এই ভেবে লজ্জায় নত হয়, দেশটার বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা কোন মুখে সরকারগুলি বলে। একজন সৎ দরিদ্র অাইনজীবি পিতার সন্তান হয়ে রাজনীতিকে নিজে দেখেছি স্লোগান, ব্যারিকেড, রোধ অবরোধের নিত্যদিনের বোধে। বিরক্ত জনগণের বিরক্তি অার বেদনার ভাষ্য হয়তো অবমাননা অবধি পৌঁছাতে পারে। তবুও বলি, এখনো দুর্নীতি, প্রবঞ্চনা অার জনগণের সাথে নিপুণ প্রতারণার নামধারী অসৎ রাজনীতির দেশে বিচার বিভাগ হাজার গুণ সৎ। শত গুণ নৈতিক। রাজনীতির নীতিহীন মুখগুলো কতটা প্রবলতায় যে অনৈতিক, তার দুটি বেদনার কথা লিখেই পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতির অবসান ঘটাচ্ছি।
বছর কয় অাগে যখন তত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় দিলেন অাদালত তখনওতো এ সরকার ক্ষমতায় ছিল। একই নেত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, দলেও। কই তখন তো অাদালতের অাদেশে অায়েশি রাজনৈতিক খায়েস পূরণের হাসি হেসেছিলেন মন্ত্রী বাহাদুরেররা। অাজ কেন তবে উদ্ধত্ব মাখা এ অদ্ভুত বৈপরীত্য। সুবিধার দামে চরিত্র বদল দেশে দেশে জানি পুজিঁর রাজনীতির চরিত্রের দৌরাত্ম।
কিন্তু এতটা নগ্নতায় পল্টি খাওয়া নীতির বিকৃতি নাপাক পাকিস্তানের মতো দেশেও বিরলপ্রায়। বিচার মানি কিন্তু বিচারক তালগাছ সব অামার- এমন বৈপরিত্বের অদ্ভুত রাজনীতির নীতিহীন বৃত্তি বড়ো অাহত করে অামায়। অক্ষর সেখানে খুজেঁ হয়রান হয় শ্রাব্যতম ক্ষোভের প্রতিবাদের ভাষা।
অনেকে এ ইস্যুটিকেও সরকারের অন্য অনেক ইস্যু ইস্যু খেলার সঙ্গে মেলাতে চান। অামি স্থম্ভিত হই, কথারা এমত বাস্তবতার ব্যতয়ে হয় বাক্যহারা। অামরা বড়ো মানুষগুলোকে, প্রতিষ্ঠানগেুলোকে ছোট করে নিজেদের ছোটলোকের চোখে দেখতে ভালবাসি স্বভাবের ক্ষুদ্রতায়।
বিচার বিভাগও যদি সর্বগ্রাসী রাজনীতির দেশে স্বাধীন কন্ঠে কথা না বলতে পারে,তাহলে কোথায় থাকল সংবিধানের মর্যাদাময়তা? ভোট দিতে দেয়া হল বা না হল বাংলাদেশে বহু জনগণ এখন তার অার তোয়াক্কা করেন না। না করবার বাস্তবতা যে বিদ্যমান নয়, তা বলা হবে মিথ্যাচার।
অাসলে দম্ভের বা অহংকারের দ্বারা চালিত মানুষগুলোর মতোন সরকারগুলোও কখনো তার প্রকৃত অবস্থান দেখতে পায় না। না, রাজনীতির প্রতি বিন্দুমাত্র ক্ষোভ নেই অামার, নেই বেদনাও। অাহত করে কেবল রাজনীতির নীতিহীন দম্ভ অার অাস্ফালনের অন্ধকারাচ্ছনতা। কী বিশাল শুন্যতায় সেখানে যে অনুপস্থিত ন্যায্যতা। বরঞ্চ হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে বিশ্বাস করি, রাজনীতির সুবিধা অার স্বার্থান্ধ গতি যেদিন পাল্টাবে, সেদিন পাল্টাবে দিন। কেবল রাজনীতিরই সেই ক্ষমতা অাছে দুর্নীতি অার অনায্যতার দিনবদলের।
সুশাসন অার ন্যায় রাজনীতির নীতিহীন নগ্ন দুপুরে যে অাসবে না সেকথা জানি। সে সূর্যোদয় কেবল মাত্র অানতে পারে রাজনীতির ইতিবাচকতাই ।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)








