চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Channelionline.nagad-15.03.24

নৌকার প্রার্থী হতে চান তারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় নির্বাচনী মাঠেও প্রভাব পড়েছে প্রার্থীদের মাঝে। বিএনপি’র কেউ প্রকাশ্য না হলেও নির্বাচনী হাওয়ায় তৃণমুলে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাই।

বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরুর ঘোষণা আসায় তৃণমুলে অনেকটা সরব হচ্ছেন সম্ভাব্য আগ্রহীরা। মুলত মাঠ পর্যায়ে নৌকার মাঝি হতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন তারা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে নীলফামারী-০২ (সদর) আসনে সম্ভাব্য কোন প্রার্থী না থাকলেও বাকি তিন আসনে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বেশ কয়েকজন। এদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছেন।

জানা গেছে, নীলফামারী-০১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন; সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যার্টনী জেনারেল অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সরকার ফারহানা আক্তার সুমি, নীলফামারী-০৩ (জলঢাকা-কিশোরগঞ্জ আংশিক) আসনে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও নীলফামারী-০৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমেনা কোহিনুর আলম ও আওয়ামী কর আইনজীবী পরিষদের প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমির উল ইসলাম আমির এবং জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভা মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ।

অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন ডোমার শহরের কলেজপাড়া’র বাসিন্দা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকে নির্বাচনে আগ্রহ দেখিয়ে কাজ করে আসছেন। দলীয় কর্মকাণ্ড ছাড়াও সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বর্তমানে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সুপ্রিম কোর্ট শাখার কোষাধ্যক্ষ ছাড়াও ডোমার পৌর আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের চিলাহাটি গ্রামের সরকার ফারহানা আখতার সুমি ছাত্রলীগ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তিনি ৬নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানীর মেয়ে। এলাকায় উন্নয়ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন দীর্ঘদিন থেকে।

এই আসনে নৌকার মাঝি হয়ে চমক দেখাতে পারেন জেলা আওয়ামী লীগে’র সভাপতি ও পৌরসভা মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ। নীলফামারী শহরের বাসিন্দা হলেও নীলফামারী-০২ আসন থেকে নির্বাচনের কোন আগ্রহ নেই তার। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর রয়েছেন এ আসনে। তবে নীলফামারী-০১ অথবা নীলফামারী-০৪ যেখান থেকে মনোনয়ন দেবেন নেত্রী সেখান থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ রয়েছে তার।

নীলফামারী-০৪(সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন লাভে কাজ করছেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা। কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা নাফা ইতোপূর্বে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে কাজ করেছিলেন।

এছাড়া এই আসনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমেনা কোহিনুর আলম মনোনয়নের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গত নির্বাচনেও প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চান তিনি। নীলফামারী-০৩(জলঢাকা-কিশোরগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন চাওয়ার তালিকায় প্রকাশ্য কেউ না থাকলেও মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-০১ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার, নীলফামারী-০২ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় আসাদুজ্জামান নুর, নীলফামারী-০৩ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা এবং নীলফামারী-০৪ আসনে জাতীয় পার্টির শওকত চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।