ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রমে নেপাল সরকারের কোনো ত্রুটি দেখেননি বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাম বাহাদুর থাপার সাথে এক বৈঠকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করেন বিমানমন্ত্রী।
দুর্ঘটনায় নিহদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি নেপাল সরকারের ত্বরিৎ পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, উদ্ধার কার্যক্রমে নেপাল সরকারের কোনো অবহেলা তারা অনুভব করেননি।
সোমবার দুপুরে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের পর দুর্ঘটনার বিষয়ে আপডেট জানতে মঙ্গলবার শীর্ষস্থানীয় এক প্রতিনিধিদল নিয়ে নেপালে যান শাহজাহান কামাল।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিহতদের প্রতি তার গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং তিনি ত্রিভুবন বিমানবন্দরে যান। বেঁচে থাকাদের উদ্ধার এবং তাদের চিকিৎসা সময়মতো নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।
থাপা বলেন, সরকার ইতিমধ্যে এই দুর্ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। নেপাল সরকার আক্রান্তদের দ্রুত উদ্ধার এবং চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া এবং ময়নাতদন্ত চলছে জানিয়ে থাপা বলেন, এই কাজগুলো শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে।
নিহতদের মৃতদেহ দেশে আসতে ৫ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।
বিমানমন্ত্রী জানান, যেসব মৃতদেহ একটু ভালো আছে তাদের স্বজনেরা সঠিক তথ্য দিলে ৪/৫ দিনে মৃতদেহ ফেরত দেওয়া যাবে।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী জানান, তিনি কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে, নরভিক ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল এভং ওম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুর্ঘটনাগ্রস্থ উড়োজাহাজের ১০ জন বাংলাদেশি যাত্রীর সাথে দেখা করেছেন। তাদের যে সেবা দেয়া হচ্ছে, তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ওম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজনকে তার পরিবার অধিকতর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয় যেতে চান। আহতদের চিকিৎসায় সহায়তায় বার্ন ইনজুরির জন্য বাংলাদেশ থেকে অর্থোপেডিক্স এবং মেডিকেল স্পেশালিস্টরা নেপালে আসতে চান। বাংলাদেশী মন্ত্রী থাপার কাছে প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করার জন্য সাহায্য চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্নের উদ্যোগ নেয়া হলে নেপাল সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
দুই দেশের পক্ষ থেকেই এই তদন্তে সাহায্য করার জন্য তারা একমত হয়েছেন বলে জানান। এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জোড়ালো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান।
সোমবার ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫১। এর মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি এবং ১ জন চীনা নাগরিক। চিকিৎসাধীন যাত্রীদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উড়োজাহাজটিতে থাকা ৬৭ যাত্রীর মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশী, ৩৩ জন নেপালি, একজন মালদ্বীপের এবং একজন চীনের নাগরিক। উড়োজাহাজটিতে ৬৭ যাত্রীর পাশাপাশি ৪ জন ক্রু ছিলেন বলে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
দুর্ঘটনায় প্রথমেই মৃত্যু হয় ওই ফ্লাইটের সহকারি পাইলট এবং ইউএস বাংলার প্রথম নারী পাইলট পৃথুলা রশিদের। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদকে। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যাপ্টেন আবিদও মারা যান।







