এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেন। হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুই ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী, মাঠের লড়াই ছাপিয়ে আভিজাত্যেরও লড়াই। একদিকে কাইলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে উড়তে থাকা ফ্রান্স, অন্যদিকে লামিন ইয়ামালদের স্পেন। ফরাসিদের টানা তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্পেনিয়ার্ডদের আরেকটি সাফল্যগাঁথা, ডালাসে অপেক্ষা নতুন মহাকাব্যের।
ডালাসের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় ফাইনাল ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। ফরাসিরা কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ গোলে মরক্কোকে হারিয়ে সেমিতে জায়গায় করে নেয়। বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমির টিকিট কাটে স্পেন। টানা তৃতীয় ফাইনালের লক্ষ্যে ফ্রান্স সফল হলে, স্পেনের ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান হবে না।
চলতি বিশ্বকাপে ফরাসিদের পথচলা এপর্যন্ত এককথায় নিখুঁত। ৬ ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে। স্পেন প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র করে একটু হোঁচট খেলেও, পরের পাঁচ ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কেবল একটি গোলই হজম করেছিল তারা। বাকি ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষকে কোন সুযোগ না দিয়ে ক্লিনশিট আদায় করে নিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তে শিষ্যরা।
ফ্রান্স-স্পেন দ্বৈরথে প্রীতি ম্যাচ এবং প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ মিলিয়ে দুদল এপর্যন্ত ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে জয়ের পাল্লাটা স্প্যানিশদের দিকেই ভারী, স্পেন জিতেছে ১৮টিতে, ফ্রান্সের জয় ১৩টিতে। বাকি ৫ ম্যাচ ড্র। বিশ্বকাপ মঞ্চে অবশ্য মাত্র একবার দুদল মুখোমুখি হয়েছে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ২০০৬ সালের সেই ম্যাচে ফ্র্যাংক রিবেরি, প্যাট্রিক ভিয়েরা ও জিনেদিন জিদানের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছিল ফ্রান্স।
ইউরোর মঞ্চে দুই পরাশক্তির ইতিহাস বড্ড নাটকীয়। ১৯৮৪ ইউরো ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতেছিল ফ্রান্স। ২০১২ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সকে বিদায় করে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছিল স্পেন। ২০২৪ ইউরো সেমিতেও মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন, শিরোপা জিতেছিল। গতবছর নেশনস লিগেও ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি জিতে নিয়েছিল স্পেন। গত তিনবছরে তিন-তিনবার স্পেনের কাছে মাথা নোয়াতে হয়েছে ফরাসিদের। স্প্যানিশদের সেই অর্জন বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে ঠেকাতে চাইবেন এমবাপেরা।
ফিফার সবশেষ র্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা এগিয়ে ফ্রান্স, শীর্ষে আছে। চলতি বিশ্বকাপে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী তারা। গতি, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা, তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। দলের অন্যতম তারকা কাইলিয়ান এমবাপে ইতিমধ্যে ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন। উসমানে ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলার মতো আক্রমণভাগের তারকারা যেকোনো রক্ষণকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে দলটির ভারসাম্য এবং বড় ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা অসাধারণ।
ফিফার র্যাঙ্কিংয়ে তিনে থাকা দল স্পেন। তাদের বড় শক্তি রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। চলতি বিশ্বকাপে তারা এপর্যন্ত কেবল একটি গোল হজম করেছে। রদ্রি, পেদ্রি ও দানি ওলমোর মাঝমাঠ যেকোনো প্রতিপক্ষকে বল পজেশনে কোণঠাসা করতে সক্ষম। ডানপ্রান্তে লামিন ইয়ামালের গতি ও স্কিল প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের জন্য বড় হুমকি। মিকেল ওয়েরজাবাল, দানি ওলমো ও অ্যালেক্স বেনারা আছেনই।
এদিকে ম্যাচের আগে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে নেমে স্পেন ফেভারিট এটা শুনতে হয়েছে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমকে। তিনি যদিও বলেছেন, ‘তারা (স্পেন) যা করেছে, এমনকি নেশনস লিগের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হারার পরও, তারা অনেক শক্তির একটি অসাধারণ দল।’
প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও নিজের দলকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ফরাসি কোচ, ‘আমরা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছি। প্রতিপক্ষকে আমরা ভালো করেই চিনি, কিন্তু আমাদের শান্ত থাকতে হবে। এটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, অত্যন্ত উচ্চমানের একটি ম্যাচ।’
অন্যদিকে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের মতে, ম্যাচ অত্যন্ত কঠিন হবে। বলেছেন, ‘আমরা ফেভারিট, তার মানে এই নয় যে আমাদের উপর বাড়তি চাপ পড়বে। আমাদের উপর চাপ এমনিতেই থাকে, কারণ আমরা আমাদের দেশের জন্য ভালো করতে চাই। ফ্রান্সের দারুণ খেলোয়াড় আছে, কিন্তু আমাদেরও আছে। অবশ্যই আমাদের এই খেলোয়াড়দের (এমবাপে, ডেম্বেলে এবং ওলিসে) নিয়ে ভাবতে হবে, নিজেদের লড়াইগুলো জিততে হবে, আক্রমণাত্মক থাকতে হবে এবং নিজেদের খেলার ধরন নিয়ে ভাবতে হবে।’
ফ্রান্সের সম্ভাব্য একাদশ
মাইক ম্যাগনান (গোলরক্ষক), হুলেস কৌন্ডে, ডেওট উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা, লুকাস ডিগনে, আদ্রিয়েন রাবিওত, মানু কোনে, উসমানে ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ব্র্যাডলি বারকোলা ও কাইলিয়ান এমবাপে।
স্পেনের সম্ভাব্য একাদশ
উনাই সিমন (গোলরক্ষক), পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, অ্যালেক্স বেনা, মিকেল ওয়েরজাবাল।







