নেইমার–কাভানির ‘ইগো’ ঝামেলায় পিএসজি একটু বিপাকেই পড়েছিল। লিগে গত ম্যাচে পয়েন্টও হারিয়েছে দলটি। সেই ম্যাচে নেইমার ছিলেন না। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে নেইমার ফিরলেন, গোলও পেলেন। গোল পেলেন এডিনসন কাভানিও। সঙ্গে নেইমার–কাভানির ‘ইগো’ দ্বন্দ্বের আরেক চরিত্র দানি আলভেজের গোলে দাঁড়াতেই পারেনি জার্মান জায়ান্টরা।
বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে উনাই এমেরির শিষ্যরা। আলভেজ, নেইমার, কাভানির গোলের রাতে দুটিতে অবদান রেখে পিএসজির জয়ে অন্যতম ভূমিকা রেখেছেন কাইলিয়ান এমবাপেও।
ঘরের মাঠ পার্ক ডে প্রিন্সেসে পিএসজির শুরুটা হয়েছে দাপটের সঙ্গেই। দর্শকরা নড়েচড়ে বসার আগেই প্যারিসের দলটির ব্রাজিলিয়ান তেজ টের পেয়েছে বায়ার্ন। নেইমার-আলভেজের মেলবন্ধনে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল পায় স্বাগতিকরা। ডি-বক্সের ভেতর থেকে জটলার সুড়ঙ্গ দিয়ে নেইমার বল ঠেলে দেন ডানপ্রান্তে আনমার্কিং স্বদেশীকে। সেটি থেকে অতিথি গোলরক্ষক উলরিখের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ঘরের মাঠের দর্শকদের আনন্দে ভাসান রাইটব্যাক আলভেজ।
শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে আক্রমণে উঠেছে বায়ার্নও। ১২ মিনিটে জোসুয়া কিমিচের নেয়া কর্নার থেকে পাওয়া বলে পা ছুঁয়েও জালে জড়াতে ব্যর্থ হন থমাস মুলার। ১৮ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে জাভি মার্টিনেজের জোড়াল শট কোনভাবে ঠেকিয়ে ত্রাতা স্বাগতিক গোলরক্ষক আরেওলা।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাকে গোলের সুযোগ হারিয়েছেন এডিনসন কাভানি। এমবাপের বাড়িয়ে দেওয়া বল জোরাল শটে বায়ার্নের বাঁ-বারের গা ঘেঁষে বাইরে পাঠিয়েছেন উরুগুয়ে ফরোয়ার্ড।
কাভানি সুযোগ হাতছাড়ার শোধ তুলেছেন চার মিনিট পরেই। ডি-বক্সের ভেতর দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এমবাপের করা ব্যাকপাস থেকে বায়ার্ন গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জালে বল জড়িয়েছেন। ৩১ মিনিটে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোল সেটি।
তবে গোল ছাপিয়ে স্বাগতিক দর্শকদের মন কেড়েছে গোল উদযাপন ভঙ্গিই। কাভানির সঙ্গে নেইমারের উষ্ণ আলিঙ্গন বার্তা দিয়েছে পেনাল্টি, ফ্রি-কিক নিয়ে সমস্ত দ্বন্দ্ব ভুলে যাওয়ার!
দ্বিতীয়ার্ধে ৫০ মিনিটে পরপর গোলের সুযোগ হারিয়েছে বায়ার্ন-পিএসজি দুদলই। প্রথমে কিমিচের কর্নার থেকে মার্টিনেজের মাথা ছোঁয়া বল গোললাইন থেকে ফিরিয়েছেন আলভেজ। সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন নেইমার।
ম্যাচের ৬৩ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়েছেন নেইমার। দারুণ ড্রিবলিং করে গড়া আক্রমণে পেনাল্টি বক্স থেকে এমবাপের শট বায়ার্ন ডিফেন্ডার ঠেকিয়ে দিলেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। সেখান থেকে আলতো টোকায় জালে বল জড়িয়ে বায়ার্নকে ৩-০তে পিছিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। প্যারিসের ক্লাবটির হয়ে ৬ গোল হয়ে গেল নেইমারের।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটে অফসাইডের কারণে একটি গোল বাতিল হলে ফেরার আশাও শেষ হয়ে যায় বায়ার্নের। শেষ মিনিটগুলোতে আরও দুটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া না হলে অন্তত একটি গোল নিয়ে ফিরতে পারতো কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
এই জয়ে গ্রুপ ‘বি’তে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে সবার উপরে পিএসজি। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে বায়ার্ন। রাতের আরেক ম্যাচে আন্ডারলেখটকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে স্কটিশ ক্লাব সেল্টিক।







