অসামঞ্জস্য ফলাফল ও কারচুপির অভিযোগ এনে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের আবেদন করেছেন সভাপতি পদপ্রার্থী ওমর সানি। গতকাল রোববার বিকালে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ডে তিনি লিখিত আবেদন জানান। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের নির্বাচন কমিশন চেয়ারম্যান মনতাজুর রহমান আকবর চ্যানেল আই অনলাইনকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে ওমর সানি বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৫৮টি। এর মধ্যে ৮৯টি ভোট বাতিল বলে নির্বাচন বোর্ড প্রকাশ করেছে। মোট ফলাফল অসঙ্গতিপূর্ণ কেননা সভাপতি তিনজনের ভোট যোগ করলে মোট ৪৬৯টি ভোট হওয়া উচিত। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে পাওয়া যাচ্ছে মোট ভোট ৪৫৬টি।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য পদে প্রাপ্ত ভোটের যোগফল কোনো ভাবেই বৈধ ব্যালটের সঙ্গে মিলে না। যেমন, কার্যনির্বাহী মোট ভোট হওয়া উচিত (৫১১*১১) = ৫৬২১টি। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে পাওয়া যাচ্ছে মোট ভোট ৫৬৬৫টি। তাহলে অতিরিক্ত ৪৪টি বেশি ভোট কোথা থেকে এলো? এমনকি কোষাধ্যক্ষ পদে তিন প্রার্থীর মোট ভোট ৪৬৫টি, কিন্তু হওয়া উচিত ৪৬৯টি।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সর্বশেষ সভাপতি শাকিব খান পদাধিকার বলে ভোট গণনার সময় উপস্থিত থাকতে পারেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন গণনার সময় জোরপূর্বক তাকে অফিস থেকে বের করে দেয়, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। বিকালের দিকে অনেক ভোটার বাঁধার মুখে এফডিসিতে প্রবেশ করতে না পেরে ভোট না দিয়েই চলে যান। আমি মনে করি একটি পক্ষ তাদের স্বার্থে নির্বাচন বোর্ডকে প্রভাবিত করেছে।’
ওমর সানির সঙ্গে এ ব্যাপারে গতকাল রাতে চ্যানেল আই অনলাইন থেকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি এই আবেদন করার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে মনতাজুর রহমান আকবর বলেন, ‘ওমর সানি বিকালের দিকে লিখিতভাবে ফলাফল বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। এটা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। এ ধরনের কোনো নিয়ম বা অধিকার আমাদের নেইা। তবে তিনি ব্যালটের যোগফল নিয়ে কিছু অভিযোগ করেছেন। আমি মনে করি, রাতে তাড়াহুড়ো করে যোগ করা হয়েছে, এক্ষেত্রে ভুল হতে পারে। আমরা তা পরীক্ষা করে সঠিক রেজাল্ট পরশু মঙ্গলবারের মধ্যেই ঝুলিয়ে দেব।’
আর নির্বাচনের ফলাফল কারচুপির অভিযোগের ব্যাপারে মনতাজুর রহমান আকবর বলেন, ‘ওমর সানির স্ত্রী মৌসুমী সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ভোট গণনায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরও অনেকে ছিলেন। এই যেমন মিশা সওদাগর, ড্যানি সিডাক। ওনারা সবাই খুব ভালো করে জানেন, এখানে কিছুই হয়নি। এগুলো সব মনগড়া কথা। এর কোনো ভিত্তি নেই।’
গত ৫ মে এফডিসিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি পদে মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খান নির্বাচিত হন। সভাপতি পদে ওমন সানি পরাজিত হন।
এবার ২১টি পদের বিপরীতে ৫৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। মোট ভোটার ছিলেন ৬২৪ জন। ভোট দিয়েছেন ৫৫৮ জন। এর মধ্যে ৮৯টি ব্যালট পেপার বাতিল হয়। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়। ফলাফল প্রকাশ হয় পরদিন শনিবার সকালে।
এবার নির্বাচনে তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছে। প্যানেল তিনটি হলো ওমর সানি-অমিত হাসান, মিশা সওদাগর-জায়েদ খান এবং ড্যানি সিডাক-ইলিয়াস কোবরা। এর মধ্যে ওমর সানি-অমিত হাসান প্যানেল থেকে জয়লাভ করেছেন সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক জাকির হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কমল আর কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য পদে জেসমিন, ফেরদৌস, মৌসুমী ও সুশান্ত। ড্যানি সিডাক-ইলিয়াস কোবরা প্যানেল থেকে শুধুমাত্র কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য পদে জয়লাভ করেছেন নাসরিন। বাকি সবকটি পদেই জয়লাভ করেছেন মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল থেকে।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে। এবার ১৪তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত







