আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি নতুন করে সদস্য সংগ্রহে নেমেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতের ‘অপপ্রচারণা’র বিপরীতে সরকারের উন্নয়ন কাজগুলো তৃণমূল মানুষের কাছে তুলে ধরতে নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
২০১০ সালে সর্বশেষ সদস্য সংগ্রহে নামার পর অল্প কিছুদিন সদস্য সংগ্রহ চলে তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এবার সর্বাধিক সংখ্যক সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যে এগোচ্ছে দলটি। এর অংশ হিসেবে দলের বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজেদের সদস্যপদ নবায়ন করেন।
এসময় আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফিউল আলম ভুইয়া ও আইনজীবী ফারজানা বেগম।
তবে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ঢুকে জামায়াত-শিবিরের লোকেরা সহজেই নেতা হয়ে যাচ্ছে তৃণমূলের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দলীয় নেতা বানানোর আগে ভালো করে তাদের পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নিন। কেননা এদের মুখে আওয়ামী লীগ আর ভেতরে জামায়াত-বিএনপি।
সরকারের উন্নয়ন কাজগুলো তৃণমূল মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য বর্ধিত সভায় দলের প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে একটি করে ল্যাপটপ।
এছাড়া বর্ধিত সভায় উপস্থিত প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে বিগত সময়ে সরকারের উন্নয়নের চুম্বক অংশ ও বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও এর সিডি। এলাকায় ফিরে জনসাধারণের মাঝে এই সিডি প্রচারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র, সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান ও বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের ওপর বই ছাপানো হয়েছে। এগুলো জেলা নেতাদের দিয়ে তা প্রচারের নির্দেশনা দেয়া হয়।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে জয়ের এক সপ্তাহ পর শপথ নেয় বর্তমান মন্ত্রিসভা। সংবিধান অনুযায়ী সরকারের মেয়াদের শেষ ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে।
এই হিসেবে ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগামী নির্বাচনকে দেশ ও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।









