নিরপেক্ষ অস্থায়ী সরকারের অধীনে নির্বাচন পরিচালনা, সেনা মোতায়েন এবং প্রার্থীর প্রচারণায় নির্বাচন কমিশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ চায় বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপে দলটি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এসব প্রস্তাবসহ মোট ১৫ দফা প্রস্তাব দেয়।
১৫ দফা প্রস্তাবের তালিকার ৩ নম্বরে থাকা প্রস্তাবে বলা হয়, ‘টাকার প্রভাব খাটিয়ে ভোটারদের বিপথগামী করা হয়। নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব চলছেই। এজন্য প্রার্থী বা তা পক্ষে কাউকে স্বাধীনভাবে প্রচারণা চালানোর সুযোগ দেয়া যাবে না। একই পোস্টারে সকল প্রার্থী পরিচয় এবং একই মঞ্চে সব প্রার্থীর বক্তৃতার ব্যবস্থা করতে হবে। জামানতের সঙ্গে এসব বিষয়ক খরচের টাকা প্রার্থী অথবা দল থেকেই নেয়া যেতে পারে।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে সকাল ১১ টার পর শুরু হওয়া সংলাপে অংশ নেয় দলটির প্রতিনিধিরা। সংলাপ শেষে দলের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক সাংবাদিকদের কাছে তাদের প্রস্তাবের সার-সংক্ষেপ তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ১৫ দফা প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হচ্ছে: ধর্ম ও দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী কোনো দলকে নিবন্ধন না দেয়া, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা, সিল মারার স্থান ছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা।
২০২০ সালের মধ্যে দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখতে ইসি’র শর্তের বিষয়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘১৫ দফা প্রস্তাবের ৯ নম্বরে আমরা নিবন্ধনের জন্য ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিংবা বিরোধপূর্ণ কোনো শর্ত আরোপ না করতে বলেছি। নারী সদস্য বিষয়ের যে শর্ত আছে তা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সংলাপের পর ব্রিফিংয়ে ইসি’র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, আগামী ৩০ অক্টোবর সব রাজনৈতিক এবং গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের সঙ্গে চলমান সংলাপ শেষ হবে। এরপর প্রস্তাবনাগুলোর রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক বিষয়গুলোর ব্যাপারে এখতিয়ার মেনে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে নির্বাচন কমিশন গত ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন ভবনে আসে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধিদল।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসার আগে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল ইসি।








